ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষের প্রতিবাদে মসজিদে বিক্ষোভ আজ

ধর্মীয় নেতাদের একটি ফোরাম-হেফাজতে ইসলাম আজ শুক্রবার দেশের সাড়ে চার লক্ষ মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষনা করেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে সরকার সমর্থকদের বিক্ষোভের নামে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রচার করা হচ্ছে- এমন অভিযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। এর আগে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের লালখান মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কমর্সূচির ঘোষণা দেয় হেফাজতে ইসলাম।
হেফাজতে ইসলাম মূলতঃ দেশের বেশ কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর ফোরাম। এর অন্তর্ভূক্ত গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বিরোধ বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে ইসলামের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বিবৃতি পাঠিয়েছেন আল্লামা আহমাদ শফী (আমীর, হেফাজতে ইসলাম ও চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারেস- বেফাক), মাওলানা মহিউদ্দিন খান (সম্পাদক, মাসিক মদীনা ও সভাপতি, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ), মাওলানা শাহ্ আহমাদুল্লাহ্ আশরাফ (আমীরে শরিয়ত, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক (আমীর, খেলাফত মজলিস), মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী (চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট), ড. মুফ্তি শাহ্ সাইয়্যেদ এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী (পীরসাহেব, জৈনপুরী), মাওলানা শাহ্ আরীফ বিল্লাহ সিদ্দিকী (পীরসাহেব, ছারছীনা দরবার শরীফ), শাহ্ সুফী শায়েখ আব্দুল মোমেন নাছেরী (পীরসাহেব, মীরসরাই), শাহ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনছারী (পীরসাহেব, টেকেরহাট), মাওলানা মোশতাক ফয়েজী (পীরসাহেব, কুমিল্লা), মাওলানা আবুল বাশার (পীরসাহেব, শাহতলী), ও মাওলানা নেছার আহমদ (খলিফা, ফুরফুরা দরবার শরীফ)।

এই ধর্মীয় নেতারা বলেন, ধর্মবিদ্বেষী রাজনৈতিক কর্মীদের বিচার করতে হবে। সরকার সমর্থক রাজনৈতিক কর্মীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচার ও বিদ্বেষমূলক তৎপরতা বন্ধ না করলে পুরো দেশ থেকে ঢাকামুখী লংমার্চের ঘোষণাও দেন তারা।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চেয়ে শাহবাগে সরকার সমর্থকদের বিক্ষোভের সংগঠকরা অনলাইনে ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনছে দেশের ধর্মীয় সংগঠনগুলো।

এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণসহ মঙ্গলবার কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আল্লামা আহমদ শফী। গত পাঁচদিন ধরে এই নিয়ে দেশের নানা জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো।

তবে শাহবাগে সরকার সমর্থকদের দাবি, বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এসব ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ের মহাসমাবেশে ইসলাম, সনাতন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।

সমাবেশে সরকারপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন যে, তারা ইসলামবিরোধী নন। তবে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে শুক্রবার শাহবাগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও পড়ে পিছিয়ে যায় ছাত্রলীগ ও সমমনা সংগঠনগুলো। ফলে দীর্ঘ সতেরো দিন পর যান চলাচলের জন্য শুক্রবার সকালেই খুলে দেয়া হচ্ছে শাহবাগ মোড়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।