কোকোর পাচার করা অর্থ ফেরত দিচ্ছে সিঙ্গাপুর

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতিষ্ঠান ফেয়ারহিল কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের নামে পাচার করা অর্থ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে বলেছে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের নিম্ন আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে মাহবুবে আলম বাংলাদেশের একটি সংবাদসংস্থাকে এই খবর দেন। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওই অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের দাবির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়।’

তবে আদালতের আদেশে কোকোর পাচার করা ঠিক কতো টাকা বাংলাদেশ ফেরত পাচ্ছে তা ফেয়ারহিলের নথিপত্র পর্যালোচনার পর স্পষ্ট হবে বলে জানান মাহবুবে আলম।

এমন এক সময়ে আদালতের এই আদেশ এলো, যখন কোকোর মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরআগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানায়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোকোর পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা) তারা দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

পরে এ টাকার লভ্যাংশ বাবদ আরও ২৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুরি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) দুদকের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।

কোকোর পাচার করা আরও ৯ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার ফেরত আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সে সময়ে জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

এরআগে কোকোর পাচার করা অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে রাখার দায়ে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরি ব্যবসায়ী লিম সিও চেংকে ৯ হাজার ডলার জরিমানা করে দেশটির আদালত।

এই সিউ চেংয়ের সহায়তা নিয়েই সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন কোকো। সিঙ্গাপুরি নাগরিক লিম সিও চেংয় ছিলেন ওই কোম্পানির নমিনি ডিরেক্টর ও শেয়ার হোল্ডার।

এর এক বছর পর কোকো সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল কনসালটিং নামের দ্বিতীয় কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ইউনাইটেড ওভারসিস ব্যাংকে এ কোম্পানির নামেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যা পরিচালিত হয় লিম সিও চেংয়ের স্বাক্ষরে।

২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে লিমকে কম্পানি দুটি বন্ধ করে দিতে বলেন কোকো। সে সময় কোকো ফেয়ারহিলের অ্যাকাউন্টে থাকা ৯ লাখ ৬৭৭ আমেরিকান ডলার (১২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার) ও জাসের অ্যাকাউন্টে থাকা ২০ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ আমেরিকান ডলার সিও চেংয়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে বলেছিলেন।

তবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে সিঙ্গাপুর সরকার ওই দুটি অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করে রাখে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ‘ঘুষ’ হিসেবে নেয়া অর্থ পাচারের জন্য আরাফাত রহমান কোকোর ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা।

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তারের পর সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যান কোকো। এরপর অনুপস্থিতিতেই সাজার রায় হয়। তিনি আর দেশে ফিরেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।