এ বছর এক লাখ ৩৪ হাজার স্নাতক স্তরে শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। এর আওতায় স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে দরিদ্র মেধাবী নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসে ২০০ টাকা হারে উপবৃত্তি, বই কেনা বাবদ দেড় হাজার এবং পরীক্ষা ফি বাবদ এক হাজার টাকাসহ বছরে মোট চার হাজার ৯০০ টাকা পাবে।

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের নির্দেশ দেন। এরপর পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কয়েকটি সভায় ট্রাস্ট আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়। ২০১২ সালের ১১ মার্চ নবম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বিল, ২০১২ পাস হয়। গত বছরের ১৪ মার্চ এটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ও ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের প্রথম সভা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. আফসারুল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রমুখ।

সভায় চলতি অর্থবছর থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময় পর্যায়ক্রমে বৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। ইতিমধ্যে সরকার এ খাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আর্থিক অনুদান দিতে পারবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।