সরকারের সমঝোতার প্রস্তাব নাকচ আল্লামা শাহ আহমদ শফীর

হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী এপ্রিলের লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমঝোতার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন । শনিবার বিকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লাম শফীর সঙ্গে দেখা করে চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক (ডিসি) এমএ মান্নান ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাফিজ আক্তার সরকারের পক্ষে এ সমঝোতার প্রস্তাব দেন।

বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তারা সরকারের সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে আল্লামা শফীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক সূত্র জানা গেছে, সরকারের সমঝোতার প্রস্তাবের মধ্যে ছিল, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে হেফাজতে ইসলামের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হবে এবং হেফাজত ৬ এপ্রিলের লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবে।

এ প্রস্তাবের জবাবে আল্লামা শফী দুই সরকারি কর্মকর্তাকে বলেন, ‘সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনস্থাপন এবং দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষা ও আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইন পাস করা ছাড়া ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা তাদের দাবি থেকে এক চুলও পিছপা হবে না।’

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে কোন অস্পষ্টতা নেই। এ নিয়ে কোনো অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচারেরও সুযোগ নেই, যোগ করেন আল্লামা শফী।

বৈঠককালে  ডিসি ও এসপি আল্লামা শফীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। এসময় তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও হেফাজতে ইসলামের ৬ এপ্রিলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি হুমায়ূন কবীর, মাওলানা আনাস মাদানী, মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমেদ, আল্লামা আহমদ শফীর ব্যক্তিগত সচিব মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আল্লামা শফী ডিসি ও এসপিকে জানান, ‘আমরা বারবারই বলে আসছি, আমরা ক্ষমতার অংশ হতে চাই না। জনসাধারণের ঈমান-আকিদা ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খখলা রক্ষার তাগিদেই আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি।’

এ সময় ডিসি এমএ মান্নান হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচিতে সরকারবিরোধী বিভিন্ন গ্রুপ ঢুকে পড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জবাবে হেফাজতের আমির বলেন, ‘আমরা বারবারই সরকারের কাছে ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার অরাজনৈতিক ন্যায্য দাবিসমূহ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার আমাদের দাবিসমূহ মেনে নিলে লংমার্চ কর্মসূচির প্রয়োজন হতো না।’

‘আমাদের কর্মসূচী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আমাদের এই ন্যায দাবীর প্রতি কর্ণপাত না করে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা, আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ভয় ও অমূলক প্রশ্ন তোলা চরম দুঃখজনক’ যোগ করেন তিনি।

আল্লামা শফী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনসাধারণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ঈমান-আকিদা, ইসলাম ও মুসলমানদের ইজ্জত রক্ষার জন্য শত শত আলেম ও তৌহিদী জনতা প্রয়োজনে শহীদ হতে প্রস্তুত, তবুও ন্যায্য দাবি আদায়ে পিছপা হবে না, বলেন আল্লামা শফী।

এ সময় আল্লামা শফীকে  ডিসি ও এসপি তাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জনমনোভাব, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বুঝাতে।’

হেফাজতে ইসলাম ও কওমী মাদ্‌রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অরাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ব্যাপারেও অবগত বলে জানান দুই ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা।

সরকারের সমঝোতা প্রস্তাবে নাকচ করে দেয়ার পরে ডিসি এমএ মান্নান ও এসপি হাফিজ আক্তার আল্লামা শফীর কাছে বিশেষ দোয়া চেয়ে বিদায় নেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।