সরকারকে বাড়তি তিনশ’ দিন সময় দিয়ে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ সংশোধন

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ সম্পর্কিত মামলা নিস্পত্তির জন্য সরকারকে বাড়তি তিনশ’ দিন সময় দিয়ে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল অথবা কমিটি তিনশ’ দিনের মধ্যে একটি মামলা নিস্পত্তি করতে পারে। তাছাড়া বিলম্বের যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে দুই দফায় আরো ৯০ দিন সময় নিতে পারে।  সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় উত্থাপিত এই সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হুসেইন ভূঁইয়া সংশোধনী প্রস্তাবের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মোশাররফ বলেন, ‘তিনটি পয়েন্টে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ‘ক‘ তফসিল সংশ্লিষ্ট মামলা নিস্পত্তির জন্য জেলা ট্রাইব্যুনাল ও ‘খ’ তফসিলের বিভাগীয় কমিটির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মামলা নিস্পত্তির সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এরফলে এসব মামলা দ্রুত নিস্পত্তি ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ সহজ হবে।’ তিনি জানান, সংশোধনীতে প্রত্যেক জেলায় ‘ক’ তফসিলভুক্ত মামলা নিস্পত্তির জন্য সিনিয়র সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের সমমানের বিচারিক কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রধান ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং জেলা ও সেশন জর্জ-এর সমমানের বিচারিক কর্মকর্তাদের দিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

বর্তমানে একজন জুডিশিয়াল অফিসারের নেততৃাধীন মূল ট্রাইব্যুনাল জেলা ও দায়রা জজের সমমর্যাদার এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির মর্যাদার। কেএইচএ তফসিল বিষয় নিস্পত্তির জন্য এই সংশোধনীতে একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে (রাজস্ব) প্রত্যেক বিভাগে আপিল কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত ডিসির (রাজস্ব) নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিটি বরাবর আবেদন করতে পারবেন। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় কমিটির কাছে দ্বিতীয় আবেদন করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংশোধনের পর অর্পিত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট কোন মামলা নিস্পত্তির জন্য সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে বেধে দেয়া সময় সীমা আরো তিনশ’ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।’

সোমবারের মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও লাওস-এর কূটনৈতিক ও সরকার পাসপোর্টধারীদের ওয়েভিং ভিসার জন্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিরও অনুমোদন দিয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।