নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনায় জাটকা ধরা চলছেই

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে মেঘনায় এখনো জাটকা শিকার চালিয়ে যাচ্ছেন জেলেরা। মেঘনার আশপাশ এলাকার মাছঘাটগুলোতে প্রতিরাতেই বসে জাটকার হাট। এতে ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি অনেকটাই ভেস্তে যাচ্ছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসন রাজনৈতিক সংঘাত মোকাবিলায় মাঠে ব্যস্ত। নদীতে অভিযান চালানোর তাই কেউ নেই বলে এ ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন সংশি¬ষ্ট ব্যক্তিরা।
সরকার মার্চ-এপ্রিল মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ সময়ের জন্য রায়পুরে ২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয় এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ৭৭টি জেলে পরিবারকে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার জাল বোনার সুতা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাচের্র শুরু থেকে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা জাটকা ইলিশ শিকারে নদীতে নেমেছে। এক সপ্তাহ ধরে জেলেরা পুরোদমে মেঘনায় মাছ ধরা শুরু করেছে। পুরান বেড়ি, পানিরঘাট, হাজীমারা, গুলগুইল্যা ও কানিবগার চরসহ উপকূলীয় আশপাশ এলাকার মাছঘাটগুলোতে প্রতিরাতেই জাটকার হাট বসছে। পুলিশকে ম্যানেজ করে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী জাটকার এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের বক্তব্য, মৎস্য বিভাগ অভিযান চালানোর জন্য যেখানেই ডাক দেয়, তারা সঙ্গে থাকেন।
পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও উপজেলার সোনাপুর, রাখালিয়া, খায়েরহাট, বামনী, বাবুরহাট, জোড়পুল, মিতালি বাজার, হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট, উদমারা, গাজীনগর, শায়েস্তানগর এলাকায় রিকশা ও ভ্যানে করে প্রতিদিন ভোরে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জাটকা ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
মজুরহাট এলাকার জেলে আনোয়ার বলেন, বাংলা নববর্ষ বরণ সামনে রেখে সবাই ইলিশ সংরক্ষণ করছে। তাই ইলিশের দাম খুব বেশি। বেশি লাভের আশায় জেলেরা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন।
খাসেরহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী জানান, অসাধু জেলেরা নদীর পাড়ে পানির দামে জাটকা কিনে নেয়। পরে তা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের জেলেরা জাটকা ধরে রায়পুরসহ আশপাশ এলাকায় বিক্রি করছে। দুমাস নদীতে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল খালেক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযানের ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর জাটকা কম ধরা হচ্ছে। জেলেরা সচেতন না হলে ইলিশ সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
যোগাযোগ করা হলে রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে শুনেছি। প্রায় প্রতিদিনই মেঘনায় আমাদের অভিযান ও হাট-বাজারগুলোতে মনিটরিং চলছে। তবে নদীতে জাটকা নিধন না হলে ইলিশ উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ মৎস গবেষনা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের উপ-পরিচালক ড. আনিসুর রহমান বলেন, জাটকা নিধনের বিষয়টি দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে ইলিশ উৎপাদন ব্যহত হবে। সকলের স্বার্থেই জাটকা নিধন বন্ধ রাখা উচিত।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।