কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধে বিজিবি’র শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন ইউনিটের তত্ত্বাবধানে ‘‘সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধের জন্য বিজিবি এর সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শক্তি বৃদ্ধিকরণ’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে ৭ এপ্রিল হতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি, বলিপাড়া ও চট্টগ্রামস্থ ইউনিট হতে ৫ জন করে জেসিও, এনসিও এবং সৈনিকসহ মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী ও শিশু পাচার রোধকল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজিবির শক্তি বৃদ্ধি করা। তাছাড়া, সকল বিজিবি সদস্যগন যাতে তাদের নিজ দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট থেকে সে জন্য কঠোর হস্তে নারী ও শিশু পাচারারোধ করতে পারে, তা এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল। উল্লেখ্য, যেসব প্রধান বিষয় সমুহের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, সেগুলো হচ্ছে- মানক পাচারের প্রেক্ষিত ও পদ্ধতি এবং পরিনতি, মানব পাচার অপরাধ ও মানবাধিকার, পাচার প্রতিরোধে করণীয় বিদ্যমান কার্যক্রম এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং উদ্ধার, অধিকার ও আইনের প্রয়োগ।  চলতি ২০১৩ সালে অত্র সংস্থায় ‘‘সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধের জন্য বিজিবি এর সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শক্তি বৃদ্ধিকরণ’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সদর দপ্তর পর্যায়ে মোট ১৪ টি ওয়ার্কশপ ও ১৪ টি সেমিনার ও ০২ টি ০৫ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ, রিজিয়ন পর্যায়ে ০২ টি ওয়ার্কশপ ও ০২ টি সেমিনার, সেক্টর সদর পর্যায়ে ২৪ টি ০৩ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ, ইউনিট পর্যায়ে ৮৬ টি ০২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ এবং কোম্পানী পর্যায়ে ১৫০ টি ০১ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতি ক্ষুদ্্র আকারের আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এহেন অনৈতিক কর্মকান্ড গুলিকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক উদ্যোগ, সামাজিক সচেতনতা জাগ্রতকরণ এবং নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ। বিস্তৃত আমাদের সীমানা এবং সে তুলনায় সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর জনবল অতি নগন্য। নারী ও শিশু পাচার রোধে বিজিবি দেশের পুরো সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম  পরিচালনা করে থাকে। নারী ও শিশু পাচারের ভয়াবহতা উপলদ্ধি করে সীমান্ত এলাকা জুড়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয় এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হয়, যাতে কোনভাবেই কোন নারী ও শিশু পাচার না হয়। বিজিবি সুত্রে আরও জানায় গত কয়েক বছরে পাচারকালে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেয়া যায় গত ২০০১ হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিজিবি কর্তৃক সর্বমোট ১৩৯৭ জন নারী, ৭৯৯ জন শিশু উদ্ধার এবং ১৫৮ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। তিন দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তার মূল্যবান কক্তব্য পেশ করেন। ‘‘বিভিন্ন পর্যায়ে চোরাচালান এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সহ যে সকল স্থানে লোক সমাগম হয় সে সকল স্থানে আকর্ষণীয় হৃদয়স্পর্শী স্লোগান সম্বলিত সাইনবোর্ড গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে’’ বলে অধিনায়ক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল কমিটি রয়েছে তাদেরও আরো অধিক সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। অধিনায়ক বলেন, হৃদয়স্পর্শী নাটক/নাটিকা বানিয়ে তা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হলে তা গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘প্রশিক্ষণটি অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও কার্যপযোগী হয়েছে, এখানে শিক্ষার্থী হিসেবে যারা উপস্থিত রয়েছে তারা এই প্রশিক্ষণ হতে নারী ও শিশু পাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লাভ করেছে, যা তারা তাদের নিজ ইউনিটে গিয়ে কোম্পানী এবং বিওপি পর্যায়ে অন্যান্য সৈনিকদের  এ ব্যাপারে ধারণা প্রদান করতে পারবে। এছাড়াও, আজাকের এই প্রশিক্ষণার্থীগন উল্লেখিত বিষয়ে সীমান্তে নিয়োজিত কোম্পানী/বিওপি পর্যায়ে পরিচালিত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।