বৈশাখী আগমনে নিহত ১২

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…. গানের ডাকে সাড়া দিয়ে নয়, বৈশাখ ঠিক তাঁর প্রার্কতিক নিয়মে,আনন্দ ও দু:খের বার্তা নিয়ে এসেছে। বৈশাখের ১ম দিন থেকেই শুরু হয় নতুন বছর,তেমনি এবারো বাংলা (১৪২০) শুরু হয়েছিল। আর বছর শুরুর সাথে সাথেই বৈশাখের এ মাসে শুরু হয় কাল বৈশাখীর থাবা ঝড়। প্রতি বছর সারাদেশে এমনই ঘটছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো  প্রথম দুই দিন আনন্দের সাথে পান্তা ইলিশ খাওয়া, রমনাতে যাওয়া, নতুন খাতা খোলা সব মিলিয়ে ভালোভাবে কাটলেও তৃতীয় দিন(মঙ্গলবার) থেকে  দেশজুড়ে শুরু হয় কাল বৈশাখীর ঝড়। ঝড়ে দেশজুড়ে নিহত ১২

প্রথমে গোমরা আকাশ। অত:পর পাগলা হাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বৈশাখের প্রথম বৃষ্টি বেশ উপভোগ করলেন সারাদেশ । তবে একটানা বৃষ্টির আশায় যারা ছিলেন, তারা আশাহত হয়েছেন সন্দেহ নেই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার বৃষ্টি জানান দিলো কালবৈশেখীর বার্তা।সন্ধ্যায় বৃষ্টি কিছুটা ঝরলেও সবাই চাইছেন শরীর জুড়ানো বর্ষণ। কারণ, প্রখড় রোদ আর তপ্ত হাওয়ায় জীবন অতিষ্ঠ।

সন্ধ্যার এক পশলা বৃষ্টি ও বর্জপাতে হঠাৎ পথচারীরাসহ সকলেই একটু থেমে গেছেন । অনেকে হাত বাড়িয়ে মেখেছেন বাংলা বছরের প্রথম বৃষ্টির পরশ। কেউবা আবার মনের আনন্দ নিয়ে ইচ্ছে করে ভিজে উপভোগ করলেন বৈশাখের আগমনী এই বৃষ্টিকে। তবে এই বৃষ্টিতে  হাসি ফুটবে কৃষকের মুখে। বৈশাখের কাঠ ফাটা রোদ্দুরে মাঠ ফেটে চৌচির। ক্ষেতের আইলের ঘাসগুলোও যেন শুকিয়ে আধমরা। ফসলের জন্য চাই আকাশ থেকে নেমে আসা ‘আশীর্বাদ’ বর্ষণ। ধরণীর বুক ঠাণ্ডা হলে তবেই না ঘরে আসবে সোনালী ফসল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এ সপ্তাহে সারাদেশ জুড়ে হালকা থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, গুড়ুগুড়ু মেঘের ডাকে কিছুটা ভারি বর্ষণের জন্য আশাবাদী হতেই পারেন ।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৬টি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিমা তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

যেমনটি করে এতক্ষন আনন্দ বার্তা  দিল এই বৈশাখ তেমনটি করে দু:খের বার্তা নিয়েও হাজির হলো। কাল বৈশাখীর কাল ঝড়ে গতকাল (মঙ্গলবার) কক্সবাজারে ৭,সাতক্ষিরা ৩,রায়পুর১,ভোলায় ১জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত হয় প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রায় ১২ জন,আহত হয় অনেকে এবং এছাড়াও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় বসতবাড়ী,বাজার ,দোকানপাট ইত্যাদি,নদীতে নিখোঁজ হয় মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ।

ফসলের যেমন উপকার হয়েছে তেমনি হয়েছে অপকার,ভেঙেছে গাছপালা , রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সারাদেশে বৈশাখ এমনিভাবে আনন্দ ও দু:খ  নিয়ে হাজির হলো ,আর এ আনন্দ ও দু:খ নিয়ে থাকবে ১ মাস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।