কুমিল্লায় মঞ্চ প্রস্তুত : অপেক্ষা শুধু প্রধানমন্ত্রীর

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে স্মরন কালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাত পোহালেই কুমিল্লার মানুষের ডাকে, কুমিল্লার মানেুষের প্রানের দাবী গুলো বাস্তবায়নের জন্য আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দীর্ঘ ১২ বছর পর আগামীকাল কুমিল্লা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই হবে কুমিল্লায় তার প্রথম আগমন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কুমিল্লায় সাজ সাজ অবস্থা। দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তার এ সফর উপলক্ষে কুমিল্লা নগরী এখন নতুন রূপে সেজেছে। প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা জেলা সফরকালে জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
১৯৯০ সালে শেখ হাসিনা কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে এক জনসভায় কুমিল্লা বিভাগ বা¯তবায়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। পর পর ২ বার ক্ষমতায় যাওয়ার পরও কুমিল্লা বিভাগ হয়নি। তাই এবার প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন বলে আশা কুমিল্লাবাসীর। এ আগমনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাবাসী অধীর আগ্রহে রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা সফরে মুরাদনগর শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস কূপ খনন এবং ১.৫ কিঃ মিঃ আšতঃসংযোগ পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালন কার্যক্রম উদ্বোধন, কুমিল্লা শহরে নজরল ইনস্টিটিউট ভবনের ফলক উম্মোচন ও উদ্বোধনসহ কুমিল্লা শহরের ধর্মপুরে ১ হাজার মে. টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি খাদ্য গুদাম, চৌদ্দগ্রামে ১ হাজার মে. টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি খাদ্য গুদাম, কুমিল্লা জেলা রেজিষ্ট্রি অফিস ভবন, দাউদকান্দিতে বিভাগীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, দাউদকান্দি ও হোমনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্রবাস, ছাত্রী নিবাস, অফিস ভবন ও ডরমেটরী ভবন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবন, তিতাস উপজেলার ৫০ মে. ও. পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শেখ ফজিলাতুন্নেছা বহুমুখী কারিগরি কলেজের একাডেমীক কাম প্রশাসনিক ভবন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়) অফিস কাম প্রসেসিং এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ভবন, ১০ এমভিএ ৩৩/১ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং ১৯ কিঃ মিঃ ৩৩ কেভি সোর্স লাইন, ব্রাক্ষ্মণপাড়া উপজেলা হাসপাতাল ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্বোধন করবেন এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন হলের নির্মাণ কাজ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তি প্র¯তর স্থাপন করবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার বান্দরবান থেকে দুইশ’ পুলিশ সদস্য কুমিল্লায় এসেছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিল্লার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যাপক প্র¯তুতি গ্রহণ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে বান্দরবান থেকে তিনটি বাসে করে ২শ’ পুলিশ সদস্য কুমিল্লা এসেছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, বান্দরবানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় আশপাশের জেলায় বড় কোনো ঘটনা ঘটলে বা কোনো বিশেষ কারণে এখান থেকে সেসব জেলায় পুলিশ পাঠানো হয়।
এছাড়া শনিবার কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষ্যে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। এরই আলোকে শনিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ সমাপ্ত না হওয়া পর্যšত নগরীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম স্বাক্ষরিত অনুলিপির মাধ্যমে যে সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়কগুলো হল ফৌজদারী চৌমুহনী থেকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সড়ক, রাজগঞ্জ ট্রাফিক মোড় থেকে মোগলটুলি-মনোহরপুর, পুলিশ লাইন থেকে বাদুরতলা-কান্দিরপাড়, হোটেল সালাউদ্দিন মোড় থেকে কান্দিরপাড়, রাণীর বাজার থেকে কান্দিরপাড় এবং ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে লিবার্টি মোড় পর্যšত সব ধরনের যান-চলাচল বন্ধ থাকবে। অপরদিকে শাসনগাছার দিক থেকে আগত যানবাহন সমূহ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও পাসপোর্ট অফিসের সামনের দুই পাশকে রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। তাছাড়াও টমছম ব্রিজ থেকে আগত যানবাহন সমূহ ইপিজেড রোডের দুইপাশে এবং চকবাজার বাসস্ট্যান্ড অভিমুখী সকল প্রকার যানবাহন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে ও দূরবর্তী স্থানে রা¯তার দুই পাশে পার্কিং করার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা বিভাগ বা¯তবায়নের দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা, সরকারি দুটি (বালক ও বালিকা) উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন, কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি রেললাইন স্থাপন ও তথ্যপ্রযুক্তি গ্রাম (আইটি ভিলেজ) স্থাপনের দাবি জানাবে কুমিল্লাবাসী।
বৃহত্তর কুমিল্লা গণদাবি পরিষদের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান চৌধুরী খবর তরঙ্গ ডটকমকে জানান, ১৯৬২ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। দীর্ঘ সময়ে ওই দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার অধিবাসীদের নিয়ে কুমিল্লা গণফোরামের ব্যানারে বিভাগ আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৯২ সালে রেলপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা রেলস্টেশনে এক পথসভায় কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা গণফোরাম নাম বাদ দিয়ে কুমিল্লা বিভাগ বা¯তবায়ন পরিষদ গঠন করা হয়। ওই পরিষদের অধীনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তখনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। এরপর কুমিল্লা গণদাবি পরিষদের পক্ষ থেকে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে মশাল মিছিল, হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু দাবি আর পূরণ হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৫৩টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ করা সম্ভব। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রাচীনকালের সমতট অঞ্চলের (কুমিল্লা ও নোয়াখালী) প্রধান শহর কুমিল্লায় বিভাগ হতে পারে। কুমিল্লায় বিভাগ হলে চট্টগ্রামে গিয়ে জনগণকে ভোগাšিত পোহাতে হবে না।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ওমর ফারুক খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার আবদার করব।’
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ বা¯তবায়ন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপাšতরে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম। আশা করি, তিনি কুমিল্লাবাসীকে কিছু উপহার দেবেন। তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করি তিনি কুমিল্লা বাসীর প্রানের দাবী কুমিল্লা বিভাগ ঘোষনা দিয়ে যাবেন’।
এছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগর সর্বদলীয় আবাসিক গ্যাস সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবু মুছা সরকার খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, ‘ আমাদেও পক্ষ থেকে মুরাদনগরের ঘরে ঘরে গ্যাস দেওয়ার ও শ্রীকাইল ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের দাবি জানানো হবে।’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।