আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরাই পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরাই পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী। বহু দেশ ঘুরে আমি এটা দেখেছি। কিন্তু এই মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৩’ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা সেরা মেধাবীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে একথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তোমাদেরই একদিন শিক্ষিত হয়ে সোনার বাংলা গড়তে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে সোনার মানুষ।

সৃজনশীল মেধা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু ঢাকা শহরে নয়, আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে অসংখ্য সুপ্ত মেধা লুকিয়ে রয়েছে, যাদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ সব মেধাবীরা যখন এগিয়ে আসবে, তখনই ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে। এটাই ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন।

তিনি বলেন, দেশকে শিক্ষায় স্বনির্ভর করতে জাতির পিতা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছেন। আমরা ক্ষমতায় এসে পর্যায়ক্রমে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আমরা ২ লাখ ২শ স্কুলকে জাতীয়করণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৭৮ লাখ ১৮শ, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এসব করা হচ্ছে কেবল মেধাবীদের উৎসাহিত করার জন্য, দেশের যে কোনো প্রান্তে যেন মেধাবীরা ঝরে না পড়ে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার ২০১২ সাল থেকে কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে। শহর ও গ্রামের মেধাবীদের বৈষম্য দূর করার জন্য প্রতিটি স্কুলে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মডেম দেয়া হয়েছে। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এসবের মাধ্যমে মেধার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী ভাষা ও সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলা সাহিত্য বিভাগে দেশসেরা ১২ জন মেধাবীকে সনদ, পদক, এক লাখ টাকার চেক, বইসহ অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেন। বক্তব্যের পর তিনি আরও ৮৪ জনকে পুরস্কৃত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, যুগ্ম সচিব এ এস মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।