রানাকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার

সাভার ভবন ধ্বসে  মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া নয়তলা ‘রানা প্লাজা’র মালিক স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে রবিবার গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের কাছাকাছি এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের লোকজন অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে আসা-যাওয়া করে থাকে। সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তবে তারা বেশি কিছু জানাতে রাজি হননি।

র‌্যাবের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক ক্যাপ্টেন অভিষেক আহমেদ রানার গ্রেপ্তারের বিষয়টি আরটিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে বিকেল সোয়া ৫টায় র‌্যাব সদরদপ্তরে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক সোহেল রানার গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সাভারে ভবনধসের উদ্ধার তৎপরতার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাইকে তিনি এই ঘোষণা দেন।

নানক বলেন, ‘যে মানুষরূপী পশুটি এখানে মরণফাঁদ তৈরি করেছিল, যে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের দাবি ছিল জনগণের, প্রধানমন্ত্রী তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোহেল রানা দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। দেশ ছেড়ে পালানোর সময় তাকে পাঁচ মিনিট আগে বেনাপোল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।’

অবশ্য সোহেল রানা খুলনায় আত্মগোপন করে আছেন এমন গোপন খবরে র‌্যাব-৬ খুলনার সোনাডাঙ্গায় শনিবার রাত থেকে অভিযান চালায়। তবে সেখান থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয় র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয় তলা ‘রানা প্লাজা’ গত ২৪ এপ্রিল বুধবার সকালে ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে সহস্রাধিকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আগেরদিন মঙ্গলবার বিকেলেই ভবনটিতে বড় ধরনের ফাটল দেয়। এরপর ব্যাংকসহ কিছু কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু বুধবার সকালে ভবনের পোশাক কারাখানাগুলোতে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে ভবন ও কারখানার মালিকরা।

 


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।