রায়পুরে বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী-সচিব

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টায় বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে আসেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল ও বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডেপুটেশন) মাহমুদ-উল-আলমসহ প্রতিনিধি দল। দুপুরে মন্ত্রী প্রায় ২ ঘন্টা রাখালিয়ায় অবস্থিত এ ইন্ডাস্ট্রিজের ভিতরে ঘুরে দেখেন। ওই ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে ৯ একর সম্পত্তি নিয়ে আদালতের দেয়া রায় সঠিক কিনা তা তদন্ত করতে এবং উৎপাদিত মালের গুনগত মান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান জানান, ২৫.৩৬ একর জমির মধ্যে ১৫ একর ৩৬ একর সম্পত্তি আমরা কিনে নেই। এ সম্পত্তির পাশে সরকারি ৯ একর সম্পত্তি নিয়ে ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় টেন্ডারের মাধ্যমে মোশারফ হোসেন পুস্তি নামক এ ব্যক্তি টেন্ডার শর্তাবলী লঙ্ঘন করে এ সম্পত্তি পান। কিন্তু পরক্ষণে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত ওই সম্পত্তি আমাদের পক্ষে রায় দেন। তাই মন্ত্রী পরিদর্শনে এসে এ ইন্ডাস্ট্রিজের এ সম্পত্তি এবং আমাদের উৎপাদিত মালামাল দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম শাহজাহান কামাল, জেলা প্রশাসক একেএম মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান, জেলা আ.লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের, রায়পুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী দুলাল ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর প্রমূখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ রপ্তানিমুখি ইতালিয়ান সু তৈরি শুরু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬’শ নারী-পুরষকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানে এ ইন্ডাস্ট্রিজে ২ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতানের প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্স লিঃ ফিনিস্ড লেদার প্রস্তুতকারী হিসেবে ১৯৮৩ সাল থেকে শতভাগ চামড়া রপ্তানি করে আসছে। বর্তমানে বেঙ্গল লেদার দেশের ২য় ফিনিস্ড লেদার রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান বলে খ্যাত। তাদের বছরে প্রস্তুতকৃত প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফিনিস্ড লেদার জুতা প্রস্তুতকারী ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়ায় ২৬ একর জমির ওপর প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল্স স্থাপন করে সরকার। মিলটি স্থাপনের পর লাভজনক অবস্থা চলতে থাকলেও নিয়ন্ত্রক বিটিএমসি’র উদাসীনতা ও অব্যাহত কাঁচামাল সংকটের কারণ দেখিয়ে ১৯৯৩ সালে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে বেকার হয়ে পড়ে মিলের হাজার শ্রমিক। সবশেষ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে এবং স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার কারণে ২০১০ সালে মিলটি চালু হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।