আমেরিকার একাধিক কোম্পানির চুক্তি ছিল বলে স্বীকার করেছে মার্কিন সরকার

ঢাকার অদূরে সাভারে ধসে পড়া ভবনের গার্মেন্টগুলোর সঙ্গে আমেরিকার একাধিক কোম্পানির চুক্তি ছিল বলে স্বীকার করেছে মার্কিন সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল এ কথা স্বীকার করে বলেছেন, রানা প্লাজায় চুক্তিবদ্ধ বায়ারদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৪ এপ্রিল কর্মরত অন্তত তিন হাজার শ্রমিকসহ ধসে পড়ে সরকারি প্রভাবে বেআইনিভাবে নির্মিত রানা প্লাজা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫০ জন হতভাগ্য শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। প্যাট্রিক ভিনটেল বুধবার ওয়াশিংটনে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এই ভবনে অবস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমেরিকা ও ইউরোপের বহু কোম্পানির সম্পর্ক রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আমরা এসব কোম্পানির সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছি।“

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তার দেশের কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এ পর্যন্ত ইউরোপের কোম্পানি প্রিমার্ক, বেনেটন ও ম্যাঙ্গো ধসে পড়া ভবনে কাজের অর্ডার দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে রানা প্লাজায় আমেরিকার একাধিক কোম্পানি অর্ডার দিয়েছিল বলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা অভিযোগ করলেও কথিত সভ্য ওই দেশের কোনো কোম্পানি এ কথা স্বীকার করেনি।

কিন্তু বাংলাদেশ কাস্টমস সার্ভিসের তথ্য-প্রমাণ বলছে, গত আট মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি পরিমাণ পোশাক ২১টি জাহাজে করে মার্কিন কোম্পানি চিলড্রেন’স প্যালেসে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া, গত ৫ এপ্রিল দুই টন পোশাক ওজনের একটি জাহাজ চিলড্রেন’স প্যালেসের জন্য জর্জিয়ার সাভানায় পৌঁছে।

অথচ নিউজার্সির সেক্যকাসভিত্তিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চিলড্রেন’স প্যালেস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, “আগে রানা প্লাজার ভেতরে একটি কারখানায় আমাদের পোশাক উৎপাদন হয়ে থাকলেও এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার সময় সেখানে আমাদের জন্য কোনো পোশাক উত্পাদন হচ্ছিল না।”

তবে আশার কথা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন সরকার একটি বেআইনি ভবনে অবস্থিত গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে তাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ওই ভবনের মালিক এবং গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোর মালিকদের পাশাপাশি শ্বেতাঙ্গ বায়ারদের দায়ও কম নয় বলে অভিযোগ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, উচ্চ হারের মুনাফাখোর এ সব বায়ারের উচিত ছিল, যে সব ভবন থেকে তারা গরীব শ্রমিকদের ব্যবহার করে কম মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন সে সব ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিন্ট্রেল বলেছেন, “বাংলাদেশের গার্মেন্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা দেশটি থেকে পোশাক আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব গার্মেন্টের নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আমেরিকার কোম্পানিগুলো কী করতে পারে তা নিয়েই মূলত এ আলোচনা চলছে।” সূত্র: আইআরআইবি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।