হেফাজতের ইসলামের অবরোধ ও ১৮ দলের সমাবেশ স্থগিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হেফাজতে ইসলামের অবরোধ ও ১৮ দলের সমাবেশ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হেফাজতে ইসলাম নামের একটি সংগঠন ৫ মে ঢাকা অবরোধ ডেকেছে। ৪ মে বিরোধী দল সমাবেশ ডেকেছে। সাভারে ভয়াবহ ভবনধস হয়েছে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। লোকজনকে হাসপাতালে আনা-নেয়া করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে অবরোধ ও সমাবেশ করা হলে এ ধরনের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে।”

সাভারের উদ্ধার তৎপরতাকে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দাবি করে তিনি বলেন, উদ্ধারকর্মীরা জীবন বাজি রেখে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে বিরল এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ওইদিন কারাখানায় প্রবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছিল। কিন্তু কারখানার মালিকরা বলেছে- রাতের মধ্যে যেহেতু বিল্ডিংয়ের কিছু হয়নি, সেহেতু কাজ শুরু করা যায়। অথচ সকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু করলে ভবনটি ধসে পড়ে।

এ সময় উদ্ধারকাজের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৪ মে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ১৮ দলের সমাবেশ এবং ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ স্থগিতের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেফাজতে ইসলাম সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিরোধী দল আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করলেও হেফাজত কিন্তু তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেনি। কর্মসূচির ব্যয় সাভারের হতাহতের দিলে আরও ভালো হয়।

তিনি বলেন, ‘সাভারের উদ্ধারকাজের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যদি বিরোধী দল ও হেফাজত স্থগিত করে দেন। বন্ধ করতে বলবো না; কারণ, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কর্মসূচি পালন করা সাংবিধানিক অধিকার। কর্মসূচিতে বাধা দেই না, দেব না। কিন্তু কর্মসূচি পালন করতে গেলে উদ্ধারকাজে বাধা আসবে। অনেকে তাদের স্বজনদের খোঁজ করছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, তাতেও বাধা সৃষ্টি হবে।’

হেফাজতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হেফাজতের কিছু দাবি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অন্য দাবিগুলোর যৌক্তিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।