শর্ত জুড়ে দেয়াকে দুঃখজনক, সংলাপের প্রস্তাব যথাসময়ে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বিরোধী দলকে যথাসময়ে সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হবে । আর সংলাপের সাথে বিরোধী দলের শর্ত জুড়ে দেয়াকে দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা জুড়ে সাভারের দুর্ঘটনা আর ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু্ই বলেননি।

পরে বিরোধী দলকে কবে নাগাদ সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হবে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যথাসময়ে দেয়া হবে। তবে দুঃখজনক যে, তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। বিষয়টি এমন যে, সালিশ মানি তালগাছ আমার। শর্ত মেনে সংলাপ হয় না।’

এ সময় বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নারী স্পিকার নির্বাচিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। উনি সংসদে এসে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন। পুরো পৃথিবী দেখবে- সংসদ নেতা, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকার তিনজনই নারী।’

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালে বিরোধী দলের দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি (সাংবাদিক) ২০০৭ সালে ফিরে যেতে চান, আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন। কিন্তু আমি ওই অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। এবার সেটা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

ওয়ান-ইলেভেনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে তো তার সব পছন্দের লোকই ছিল। একটা একটা করে বেছে বেছে এনেছিলেন। তারপর কি হলো- জেলের ভাত! তার ছেলেদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তারা।’

‘উনি যা আনতে চাচ্ছেন তা আনলে উনার (খালেদা জিয়া) ভাগ্যে কী হবে। আর আমাকে তো গ্রেনেড হামলা ও কোটালী পাড়ায় বোমা হামলাসহ একাধিকবার হামলা করে মেরে ফেলতে চেয়েছেন। আল্লাহ ইচ্ছায় বেঁচে গেছি। ওনাদের ওপর তো এমন হামলায় হয়নি’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের ধারণা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় নির্বাচন হবে। কানাডা, বৃটেন ও মালয়েশিয়ায় যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর আর কেবিনেট বসে না।’

বিপদের ইঙ্গিত থেকে সংলাপের প্রস্তাব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থেই সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনের নামে কী হচ্ছে? পুড়িয়ে মানুষ মারা হচ্ছে। রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে প্রায় এক হাজার মানুষ হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’

নিজের অনমনীয় মনোভাবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কখনও রিজিড (অনমনীয়) ছিলাম না, তা দেখাইনি। এটা ভুল কথা বলা হচ্ছে। আমি সব সময় চাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান যাতে হয়।’

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের ভয়াবহতা বুঝাতে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যদি চান তাহলে তত্ত্বাবধায়ক আসবে। আপনারা তো পর্দার আড়ালে থাকেন; টকশো করে খান।’

‘কিন্তু মরলে হয়তো আমি মরবো। হয়তো গুলি খেয়ে, না হয় গ্রেনেডে হামলায় মরবো। তবে এসব জেনেই রাজনীতি করি’ নিজের জীবন নিয়ে এভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।