১৭ দিন পর ‘রানা প্লাজা’য় ধ্বংসস্তূপ থেকে নারী শ্রমিক রেশমাকে জীবিত উদ্ধার

১৭ দিন পর সাভারের ধসে পড়া ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা নারী শ্রমিক রেশমাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেশমাকে উদ্ধার করা হয়। তার দেশের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।  উদ্ধারের পর সেনাবাহিনীর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিবিড়ি পরিচর্যায় (আইসিইউ) রয়েছেন।

রেশমাকে উদ্ধারের সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সবাই ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এ সময় সবাই প্রার্থনারত ছিলেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রেশমার জীবিত সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে উদ্ধারকর্মীদের পক্ষ থেকে সেখানে কেউ আছে কিনা নিয়ম অনুযায়ী জানতে চাওয়া হয়। একইসময় উদ্ধারকাজের নিয়োজিত থাকা সেনা কর্মকর্তা মেজর মোয়াজ্জেম ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে একটি ছোট একটি ফাঁকা জায়গায় একটি পাইপ নড়তে দেখতে পান। এরপর সেখানে কেউ আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে রেশমা পাইপটি ফের নাড়ায় এবং আওয়াজ করেন।

এরপর মেজর মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিকভাবে রেশমার অবস্থান চিহ্নিত হওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলেন উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় দাঁড়িয়েই ছিলেন রেশমা। এরপর সুড়ঙ্গ করে তার কাছে বিস্কিট ও পানি পৌঁছানো হয়।

একপর্যায়ে শুরু হয় মূল উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকাজে শাহীনার দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রড কেটে সুড়ঙ্গ বড় করে তাকে ওপরে তুলে আনা হয়।

এরআগে উদ্ধারকাজে রড কাটার সময় আগুন ধরে গেলে শাহীনা মারা যান। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া ইজাজ উদ্দিন কায়কোবাদ অগ্নিদগ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এই শ্রমিক দুর্ঘটনার সময় ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরের মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে পড়ে থাকা অন্য শ্রমিকদের খাবার খেয়ে প্রথম কয়েকদিন বেঁচে ছিলেন। দুই দিন আগে সেই খাবারও ফুরিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল সাভারে নয় তলা ‘রানা প্লাজা’ ভবনটি ধসে পড়ে। ওই সময় সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানায় পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।