নাফ নদী থেকে ২২ নারী-পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নাফ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ১৪ শিশুসহ ২২ নারী-পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের তিনটি পয়েন্ট থেকে এই মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ১৪টি শিশু, ৫ জন নারী ও ৩ জন পুরুষের মৃতদেহ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে গত ১৩ মে দুইশ’ রোহিঙ্গা মুসলমানকে নিয়ে একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে অনেকে নিখোঁজ ছিলেন। এসব লাশ তাদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ উদ্ধার হওয়া লাশের পকেটে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কিয়াত’ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের দাবি, ভাসমান লাশের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার সাংবাদিকদের জানান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া, দরগাহছড়া ও লম্বরী তুলাতলী এলাকার নাফ নদীতে ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করা লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় ওইসব এলাকায় হাজারো মানুষ ভিড় করে।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস বলেন, এখন পর্যন্ত ২২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সাগরে ভাসমান আরো মৃহদেহ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, মৃতদেহগুলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমান বলেই মনে করা হচ্ছে। তাদের পকেটে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কিয়াত’ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, মৃতদেহগুলোর ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা যদি পরিচয় শনাক্ত করে মৃতদেহগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তারা শনাক্ত না করলে বাংলাদেশেই দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে মিয়ানমার উপকূলে কমপক্ষে দুইশ’ রোহিঙ্গা মুসলিমকে বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। নৌকাটি সাইক্লোনের কবল থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপদ স্থানে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিলো।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের নারী মুখপাত্র বিদেশি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছিলেন, গত ১৩ মে রাতে পউকতাউ শহর থেকে রওনা দেয়ার পর ট্রলারটি নিখোঁজ হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।