কর্নেল তাহের হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সোমবার কর্নেল তাহের হত্যা মামলায় হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে হাই কোর্ট সামরিক আদালতের বিচার বাতিল করে বলেছিল, সামরিক আদালত গঠন এবং ওই বিচার কার্যক্রমের সবকিছুই অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী। ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে সামরিক আদালতের বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে করা রিটের রায় দেন হাই কোর্ট। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহেরের সামরিক আদালতে গোপন বিচার বাতিল করে দিয়ে হাই কোর্ট ঘটনাটিকে একটি ‘পরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছিল।

একই সঙ্গে আদালত কর্নেল তাহেরকে শহীদ হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। ওই বিচারে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ও এসেছে আদালতের রায়ে।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান বলেন, ‘সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার জন্য আদালত সরকারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলা হয়েছে, সেখানে মুল পরিকলাপনাকারী হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে তা টিকিয়ে রাখতে সামরিক আইনের আওতায় এসব ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।

এমকে রহমান আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও জিয়াউর রহমান যুক্ত ছিলেন- এমন পর্যবেক্ষণও উঠে এসেছে আদালতের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে।

ফলে কর্নেল তাহেরের সামরিক আদালতে বিচারের এসব প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতেই হাই কোর্ট তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান চলে।

সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৭৬ সালে জুলাই মাসে কর্নেল তাহেরসহ ১৭ জনকে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

বিচারের কয়েকদিন পরই সে সময় ২১ জুলাই কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে এমকে রহমান বলেন, সামরিক আদালতের বিচারের ঘটনার ক্ষেত্রে একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে, সে কারণেই আদালতের এই রায়ে অন্য বিষয়গুলো এসেছে এবং তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনার ৩৫ বছর পর এসে চারটি রিট মামলা করা হয়েছিল। যে রিট মামলাতেই আদালতেই এই রায় হলো।

রিট মামলাগুলো করেছিলেন কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের এবং তার ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।

তাদের পাশাপাশি জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুসহ পাঁচজন রিট মামলা করেছিলেন, তাদেরও ওই সামরিক আদালতে বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবীদের অন্যতম ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, যদি্ও কর্নেল তাহেরর ফাঁসি হয়ে গেছে। কিন্তু এখন হাই কোর্টের রায়ের ফলে তিনি দেশদ্রোহীতার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন।

তিনি বলেন, এছাড়া ওই সামরিক আদালতে যাদের সাজা হয়েছিল, তারাও অভিযোগ এবং দণ্ড থেকে মুক্ত হলেন।

একই সঙ্গে সামরিক আদালতে ওই বিচারটি আইনসম্মত ছিল না, যা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাহদীন মালিক।

এই রিট মামলায় রায় দেওয়ার আগে হাই কোর্ট আটজন এমিকাস কিউরি নিয়োগ করে তাদের বক্তব্য নিয়েছিল।

এছাড়া সে সময় ঘটনার সংবাদ তুলে ধরেছিলেন, এমন একজন বিদেশি সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদেরও বক্তব্য শুনেছেন আদালত।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।