ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ আসছে

ইউটিউব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ তবে তার আগে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে৷ ইউটিউবকে নিয়েও একই চিন্তা করছে সরকার৷ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির জানান, সামাজিক যোগাযোগের সাইট নিয়ন্ত্রণ উদ্ভট চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ সরকারের মনে রাখা উচিত কোনো কিছু এখন আর গোপন করা যায় না৷ আবার অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাও সহজ নয়৷

রামুর বৌদ্ধ পল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি আদালতে দেয়া তাদের প্রতিবেদনে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুপারিশ করেছে৷ আর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের নবি এবং ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের শনাক্তে গঠিত তদন্ত কমিটিও এই নিয়ন্ত্রণের পক্ষে৷
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রোববার তদন্ত কমিটির মতামত তুলে ধরে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার৷ যাতে এসব মাধ্যমে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য বা ছবি প্রকাশ না পায় সেজন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে৷ আর এরপর ইউটিউবও খুলে দেয়া হবে৷ তবে সেখানেও আপত্তিকর কিছু যাতে বাংলাদেশে প্রদর্শন না হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ মুসলমানদের মহানবি হজরত মোহাম্মদ সা.-এর ওপর একটি আপত্তিকর চলচ্চিত্রের ভিডিও ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করার পরও তা না সরানোয় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ইউটিউব বন্ধ করে দেয়া হয়৷
সামাজিক যোগযোগ সাইট নিয়ন্ত্রণের চিন্তাকে উদ্ভট বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির। তিনি জানান, এমন কোনো প্রযুক্তি আছে বলে তার জানা নেই যার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ সাইট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ আর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার কোনো মানে নেই৷ কারণ এই যুগে কোনো তথ্য গোপন করা যায় না৷ আর অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সহজ নয়৷ যারা ইন্টারনেট এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের এতটা নির্বোধ ভাবা ঠিক না৷ মানুষের ওপর আস্থা রাখা উচিত৷
তিনি বলেন, “দেশের বাইরে এক কোটি বাংলাদেশী বাস করেন৷ তাদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে৷ আর বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ২৯টি গেটওয়ে৷ তাই নিয়ন্ত্রণ আরোপ কতটা সম্ভব হবে তাও ভেবে দেখার বিষয়৷”
তিনি ইউটিউব প্রসঙ্গে বলেন, “এটি এতদিন বন্ধ রাখায় বাংলাদেশের মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ এখন যত দ্রুত খুলে দেয়া হয় ততই ভালো৷ কারণ ইউটিউব শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ নানা কাজে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষ৷ ”
এদিকে অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে বাংলাদশে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে রোববার তা আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে৷ ১৫ মে থেকে এই গতি কমানোর নির্দেশনা জারি করেছিল বিটিআরসি৷ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “সঠিক জ্ঞান না থাকলে যা হয় তাই হয়েছে৷ বিটিআরসি জ্ঞান অর্জন করতে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে।” সূত্র: ডিডব্লিউ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।