গত ১০ মাসে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র গুলিতে নিহত ২৬৮

মোবায়েদুর রহমান :  আওয়ামী লীগের পায়ের তলা থেকে মাটি সম্পূর্ণ সরে গেছে। কতিপয় কট্টর সমর্থক ও কর্মী ছাড়া জনগণের কাছে এই দলটির আর কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই। এগুলি বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কথা নয়। এগুলি একটি জনমত জরিপের ফলাফল। এই জনমত জরিপ করেছে যৌথভাবে ‘এশিয়া ফাউন্ডেশন’ এবং ইংরেজী ‘ডেইলি স্টার’। এশিয়া ফাউন্ডেশন বিএনপি বা জামায়াতের প্রতি দুর্বল নয়। অনুরূপভাবে ডেইলি স্টারও বিএনপি বা জামায়াতবান্ধব নয়। ডেইলি স্টার বরং জামায়াতের কট্টর সমালোচক। এই ইংরেজী পত্রিকা এবং তার বাংলা সহযোগী ‘প্রথম আলো’ আদর্শগতভাবে আওয়ামী লীগের অনেক কাছে এবং আদর্শগতভাবেই বিএনপি এবং জামায়াতের অনেক দূরে। সেই ডেইলি স্টার গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি আরেকটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনে কোন দল কি রকম ফলাফল করতে পারে সে সম্পর্কে একটি জনমত জরিপ করেছে। ঐ জরিপে দেখা যায় যে, এখন যদি দেশে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগ পাবে ২৮ শতাংশ ভোট এবং বিএনপি পাবে ৫৫ শতাংশ ভোট। অন্যেরা পাবে ৫ শতাংশ ভোট। আর ১২ শতাংশ ভোটার কোন মতামত দেননি। ঐ জরিপে আছে পল্লী গ্রামে, শহরাঞ্চলে, পুরুষ, মহিলা এবং যুব সমাজের কত শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে, আর কত শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেবে। এই ৫ টি ক্যাটাগরীতে আওয়ামী লীগ পাবে গড়ে ২৭.৪ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে গড়ে ৫৪.৪ শতাংশ ভোট।

জরিপে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ভূমিধস নামার কারণ সমূহ উল্লেখ করা হয় নাই। কিন্তু সেই কারণগুলো মানুষ খালি চোখে দেখছে। মানুষ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে যে, বিরোধী দলে থাকলে আওয়ামী লীগ যা বলে, ক্ষমতায় আসলে তারা বলে এবং করে তার চেয়ে উল্টোটা।
আ’লীগের জনবিচ্ছিন্নতার কারণঃ তত্ত্বাবধায়ক ও মানুষ হত্যা
ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের অপশাসন এবং দুঃশাসন অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে মøান করেছে। এর মধ্যে যে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে সব চেয়ে বড় যে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে সেটি হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বৈত নীতি। যখন তারা বিরোধী দলে ছিল তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আসমান থেকে জমিনের সর্বত্র লম্ফঝম্প করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারাই কলমের এক খোঁচায় অথবা পার্লামেন্টের একটি কন্ঠ ভোটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হত্যা করেছে এবং একদলীয় আওয়ামী স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংজ্ঞাটি এদেশে অতীতে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল। জামায়াতে ইসলামী উদ্ভাবিত এই তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলাটি আওয়ামী লীগই প্রথম সারা বাংলার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়। ১৯৯৪ সাল থেকে তারা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচ- আন্দোলন শুরু করে। আজ আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়কের দোষ, ত্রুটি এবং ছিদ্রান্বেষণে মহাব্যস্ত। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সমালোচনায় এই দলটি তারস্বরে চিৎকার করছে। অথচ সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কায়েমের জন্য তারা প্রায় ২ বছর ধরে যে আন্দোলন করেছে সেই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন ১২২ জন আদম সন্তান। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শত শত মানুষ। আজ যখন সেই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে তখন তারা অন্ততপক্ষে এই ১২২ ব্যক্তির রক্তের সাথে বেঈমানী করে।

 ১০ মাসে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র গুলিতে নিহত ২৬৮
আগের হাল যে দিকে যায় পিছের হালও সে দিকে যায়
আজ বিএনপি এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী তৎপরতা বলে নিরন্তর গালিগালাজ করা হচ্ছে। অগ্নিসংযোগ এবং বোমা বিস্ফোরণ গণতান্ত্রিক কাজ নয়। এটি যদি সন্ত্রাসী কাজ হয়ে থাকে তাহলে ৯০-এর দশকে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কর্মকা-ের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসী এবং হিংসাত্মক কর্মকা- করেছে সেটি জনগণ হয়তো অনেকে ভুলে গেছেন। তাদের স্মৃতিকে ঝালাই করার জন্য আমরা নিকট অতীতে ফিরে যাচ্ছি। সেই নিকট অতীত হলো ’৯৪ থেকে ’৯৬ সাল।
ক্রনোলজিঃ ’৯৪-’৯৬
১. ১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এ সময় সংঘর্ষে নিহত হয় ৩ জন।
২. ১০ এপ্রিল দেশব্যাপী হরতাল পালন করা হয়।
৩. ২০ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঢাকা অবরোধ করা হয়।
৪. ৯ নভেম্বর সচিবালয় ঘেরাও করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
৫. ২৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় ১৪৭ জন সদস্য সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।
৬. ২-৩-৪ জানুয়ারি ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী হরতাল পালন করা হয়।
৭. ২৩ জানুয়ারি টিভি ভবন ঘেরাও করা হয়।
৮. একই দিন অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারী অবরোধ কালে আদমজীতে ১ জন নিহত হয়।
৯. ২৪ জানুয়ারি হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ফার্মগেটের কাছে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করেও বোমা ছোঁড়া হয়।
১০. ১২ ফেব্রুয়ারি শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার হরতাল চলাকালে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়।
১১. ১২ মার্চ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করা হয়।
১২. ২৬ মার্চ ঢাকা অবরোধে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
১৩. ৯-১০ এপ্রিল সকাল-সন্ধ্যা দু’দিনের হরতাল পালিত হয়।
১৪. ২৭ আগস্ট আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করলে সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
১৫. ২৯ আগস্ট দিনাজপুরে থানা ঘেরাও করা হলে প্রশাসন কারফিউ জারি করে।
১৬. ২ সেপ্টেম্বর ৩২ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল দেয়া হয়। এদিন হরতালের শেষের দিকে ঢাকার মিরপুরে সংঘর্ষে ১ জন রিকশাচালক নিহত হয়।
১৭.এর প্রতিবাদে পরদিন অর্থাৎ ৩ রা সেপ্টেম্বর ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল ডাকা হয়।
১৮. ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়।
১৯. ২-৩ অক্টোবর দেশজুড়ে হরতাল পালিত হয়।
২০. ৭ অক্টোবর পাঁচ বিভাগীয় শহরে ৩২ ঘণ্টার হরতাল পালন করা হয়।
২১. ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর ৯৬ ঘণ্টাব্যাপী হরতাল ডাকা হয়।
২২. ৬ নভেম্বর সকাল-সন্ধ্যা সড়ক-রেল-নৌপথ অবরোধ করা হয়।
২৩. ২৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ডিসেম্বর মাস জুড়ে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা তা-ব চালায়।
২৪. ৪ ডিসেম্বর মীরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে ১১ জন যাত্রী পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।
২৫. ৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাস-কার-পিকআপসহ বহু গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
২৬. ৯-১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবারো লাগাতার ৭২ ঘণ্টার হরতাল পালিত হয়।
২৭. ১৯৯৬ সালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ফেব্রুয়ারির ২৯ দিনের মধ্যে ২৩ দিনই রাজধানী অচল থাকে।
২৮. ১৩ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
২৯. ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকালে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
৩০. ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক সংবাদে’ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, শুধুমাত্র ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন হরতাল ও গণকারফিউ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত এবং আহত হয় ৬ শতাধিক মানুষ।
৩১. ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ‘দৈনিক দিনকাল’ অফিস বোমা মেরে ও ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। নির্বাচন বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২৫-২৮ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি দেয়া হয়।
৩২. ৯ মার্চ থেকে লাগাতার অসহযোগ দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। ১৭ মার্চ চট্টগ্রামে তেলবাহী জাহাজে বোমা নিক্ষেপ করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। অবশ্য সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। তা না হলে পুরো বন্দর ভস্মীভূত হয়ে যেতো।
৩৩. ১৯৯৪-৯৬ সময়কালে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পাশাপাশি একটি লাগাতার ৯৬ ঘণ্টা, ২টি ৭২ ঘণ্টা এবং ৫টি ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকা হয়।
৩৪. ১৯৯৬ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভেবেছেন রোজার মাসে হরতাল হবে না। ইচ্ছেমতো ভোট চুরি করে একদলীয় নির্বাচন করিয়ে নেবেন। কিন্তু তিনি জানেন না রোজার মাসেও যুদ্ধ হয়েছিল।’
৩৫. ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেখানেই নির্বাচনী সফরে গিয়েছিলেন সে জেলাতেই হরতাল ডাকা হয়েছিল। এসব কর্মসূচিতে ব্যাপক ভাংচুর, বোমাবাজি, ককটেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ এবং গোলাগুলীর ঘটনা ঘটে এবং সহিংসতায় নিহত হয় ৫০ জন মানুষ, আহত হয় সহস্রাধিক। এর ব্যাপ্তি ছিল সর্বনিম্ন ১২ ঘণ্টা থেকে এক নাগাড়ে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিস্তৃত।
৩৬. ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের হরতাল ও ২২ দিনের লাগাতার অবরোধে সারা দেশ শুধু অচলই হয়নি, ৩৭ জন লোক এ জন্য প্রাণও দেয়।
৩৭. ১৯৯৪ সাল থেকে কেয়ারটেকার আন্দোলনে নিহত হয় মোট ১২২ জন লোক এবং আহত হয় ৮ সহস্রাধিক।
৩৮. ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয় এবং ২৯ মার্চ প্রেসিডেন্ট এই বিলে স্বাক্ষর করেন।
কে এম হাসানকে প্রতিরোধে ৩২ ব্যক্তির বলিদান
ওপরে যে খতিয়ান দেওয়া হলো সেটি হলো ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালের খতিয়ান। এর ঠিক ১০ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার সেই হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু করে। ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হয়। ঐ দিনই বেগম জিয়া বঙ্গভবনে যান এবং প্রেসিডেন্ট মরহুম ইয়াজউদ্দিনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের অনুরোধ করেন। পরের দিন অর্থাৎ ২৮ শে অক্টোবর সংবিধান মোতাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ২৮ শে অক্টোবর থেকে ৩০ শে অক্টোবর- এই ৩ দিন সারা দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক কর্মকা- চালায়। ২৮ শে অক্টোবর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সভায় লগি বৈঠা নিয়ে হামলা চালায়। ঐ হামলায় প্রকাশ্য দিবালোকে জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন নেতা ও কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং লাশের ওপর পাশবিক উল্লাসে নৃত্য করে। পরের ২ দিনও সারা দেশে আওয়ামী লীগ হিংসাত্মক তা-ব চালায়। এই তা-বে ৩২ ব্যক্তি মারা যায়। এর মধ্যে ২৮ শে অক্টোবর ১৪ জন, ২৯ শে অক্টোবর ১৪ জন এবং ৩০ শে অক্টোবর ৪ জন মারা যান।
আজ যখন আওয়ামী লীগ শান্তির ললিত বাণী শোনাচ্ছে, তখন সেটি ভূতের মুখে রাম নামের মতো শোনা যাচ্ছে। এবার আওয়ামী লীগ শাসকের ভূমিকায়। এবার তারা লেলিয়ে দিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি। পাখি শিকারের মতো গুলি করে তারা মানুষ মারছে। ডেইলি স্টারের রিপোর্ট মোতাবেক এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৬৮ ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের এই রক্ত পিপাসার পরিণতি হলো তাদের জনপ্রিয়তায় বিপুল ধস। সেই ধস প্রতিফলিত হয়েছে ডেইলি স্টার এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের জরিপে। এই জরিপে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিএপি সারা দেশে আওয়ামী লীগের চেয়ে ২৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
আওয়ামী সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।