আমাকে শহীদ করেই কেবল ইসলামি সম্মেলন বন্ধ করা যাবে : আল্লামা শফী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, তাকেসহ লাখ লাখ তৌহিদি জনতাকে শহীদ করেই কেবল ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ইসলামি মহাসম্মেলন বন্ধ করা যাবে। গতকাল হেফাজতের কার্যালয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি এ কে এম লিয়াকত আলীকে এ কথা বলেন। এর আগে ওসি লিয়াকত জমিয়তুল ফারাহ ময়দানে সম্মেলনে অনুমতি না দেয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষে থেকে তাকে অবহিত করেন বলে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী জানান। তিনি আরো জানান, অনুমতি না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় অনুমতি দিলে এ সময় বিএনপি-জামায়াত নাশকতা চালাতে পারে। এর জবাবে হেফাজত আমির বলেন, আমাদের আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে শুধু জামায়াতের ভয় দেখানো হয়েছিল। কই এ পর্যন্ত কোথাওতো আমরা তাদের আমাদের কোনো কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা করতে দেখিনি।জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সভা-সমাবেশ করা কিন্তু সরকার এ অধিকারকে খর্ব করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আমাদের ইসলামি মহাসম্মেলন হবেই হবে। যদি বন্ধ করতে হয় তাহলে আমাকেসহ লাখ লাখ তৌহিদি জনতাকে শহীদ করে বন্ধ করা যাবে।  এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী।জুনায়েদ বাবুনগরীর সংবাদ সম্মেলন চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক ইসলামি মহাসম্মেলনের আয়োজন করে থাকে হেফাজত। তবে এবার হেফাজতকে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর ইসলামি মহাসম্মেলনের জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিশ্বের বড় বড় আলেম-ওলামাদের নিয়ে প্রতি বছর ইসলামি সম্মেলন করে এলেও এবার সম্মেলনের জন্য মাঠ ব্যবহারের জন্য অনুমতি না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে হেফাজত। তারা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার জন্য সরকারকেই দায়ী করছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারকে সময় বেঁধে দেয়া হয়। অন্যথায় চট্টগ্রামের ইসলামি জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল দুপুর ১২টায় হাটহাজারীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, বহু বছর ধরে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে উপমহাদেশের প্রবীণ ও বরেণ্য আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে পবিত্র কুরআন-হাদিস ও ইসলামের নির্দেশনা জনসাধারণের মধ্যে পৌঁছানোর মহান লক্ষ্যে ইসলামি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই ইসলামি মহাসম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অতিথি হিসেবে যোগদান করে থাকেন।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি বৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকেরা পবিত্র কুরআন-হাদিস ও ইসলামের বাণী প্রচার করতে সরকারিভাবে বাধাগ্রস্ত হবেন, এটা ভাবাই যায় না। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে প্রতি বছরই দুই দিনব্যাপী ইসলামি মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছরও ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বারবার যোগাযোগ করার পরও প্রশাসন থেকে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, পবিত্র কুরআন-হাদিসের বাণী প্রচারের এই সম্মেলন বাধাগ্রস্ত করার পরিনাম শুভ হবে না। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা সামশুল আলম, আল্লামা মোহাম্মদ ইদরিস, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সলিমউল্লাহ, মাওলানা লোকমান হাকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ইসহাক, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী প্রমুখ।আসতে পারে বিক্ষোভ ও হরতালের কর্মসূচি : গতকাল হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতের সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে ইসলামি মহাসম্মেলনের জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি সরকার না দিলে যে কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে তা ঠিক করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিক্ষোভসহ হরতালের কর্মসূচি আসতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।