বিএনপি যদি সমঝোতায় আসে তবে দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেয়া হবে:প্রধানমন্ত্রী

দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার সুযোগ নেই, খালেদা জিয়া নির্বাচনের ট্রেন মিস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেণ প্রধান মন্ত্রী  শেখ হাসিনা। প্রধান মন্ত্রী বলেণ খালেদা জিয়া এই নির্বাচনে আসতে পারবেন না। তবে বিএনপি যদি হত্যা বন্ধ করে সমঝোতায় আসে তবে দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আলোচনা করছি। আলোচনা চলবে। নির্বাচন হওয়ার পর আলোচনা চলতে থাকবে। এখন উনি(খালেদা জিয়া) যদি হরতাল বন্ধ করেন, অবরোধ বন্ধ করেন, মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করেন, মানুষের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেন তাহলে নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা যদি সমঝোতায় আসতে পারি তবে প্রয়োজনে আমরা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে পুনরায় নির্বাচন দেব। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হবে।”

বিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের বিরদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার প্রধান বলেন, “খুঁজে খুঁজে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর পোড়াচ্ছেন। মানুষের ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, সহ্যেরও একটা সীমা আছে। এসব কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। মানুষ হত্যা বন্ধ না করলে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য যত কঠোর হওয়া দরকার তত কঠোর হবো।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধী দল অবরোধ দিয়ে তো কিছুই করতে পারল না। উনার অবরোধ শুধু দিন মজুর আর খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে। আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন ক্লাস পরীক্ষা দিতে না পারে তার জন্য।”

জামায়াত নির্বাচনে আসতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচনে আসছে না অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমরা চেয়েছি সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতান্ত্রিক নির্বাচন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছি। এ সরকারের আমলে সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তারপরেও এ নির্বাচনে আসা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। অথচ বিএনপি নির্বাচনে আসল না।”

অবরোধকালীন সময়ের ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আর জামায়াত মাঠে নেমে মানুষ হত্যা করে, রগ কাটে। তারা হাজার হাজার গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করছে।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবাদীদের সমালোচনা করে বলেন, “এত হাজার হাজার গাছ কাটা হল কোনো একজন পরিবেশবাদী এ নিয়ে কিছু বলল না। একটা প্রতিবাদ তাদের কাছ থেকে পাইনি। মানুষ হত্যার প্রতিবাদও পাইনি। কোন সংগঠন একটা বিবৃতি দিল না। মানুষ পুড়িয়ে মারল। প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে- কিন্তু কেউ কোনো বিবৃতি দিচ্ছে না।”

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাননি, তিনি তাদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিন্ত যারা একাত্তরে স্বজন হারিয়েছেন বিচার চাওয়াটা তাদের মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়ার কথা আলাদা। উনিতো উনার স্বামীর হত্যার বিচারও করেননি।”

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “ওনি কার বিরুদ্ধে অবরোধ দিলেন। উনি অবরোধ দিয়ে কি করতে পেরেছেন। সরকারি কার্যক্রম চলছে, কৃষি কাজ চলছে। উনি পেরেছেন বাচ্ছাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে? পেরেছেন খেটে খাওয়া মানুষের রুটি রোজগার বন্ধ করতে?  তিনি জনজীবন অচল করার কথা বলেছেন, আমরা তা সচল রেখেছি।”

পাকিস্তানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায় আজ পাকিস্তানের দরদ উতলে উঠেছে। ইমরান খান নিয়াজীর দরদ উতলে উঠেছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিকের বিচার হচ্ছে এটা নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা কেন? অবশ্য এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানের অন্তরাত্মা।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের আশা ছিল বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেবে। এজন্য আমরা জোটগতভাবে ছাড় দিয়ে প্রার্থী ঠিক করেছি। যখন বিরোধী দল নির্বাচনে আসেনি, তখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরেও নির্বাচনে ১২টি দল ও ৫৪০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, নুহ উল আলম লেলিন, ড.এইচটি ইমাম, ড.মশিউর রহমান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকোটে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছারসহ দলের ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রায় সব সদস্যই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।