মাহফুজ উল্লাহকে দুপুরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে দুপুর দুইটার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। অন্যত্থায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম সময় আবেদন করেন। আদালত তাকে উপস্থিত না দেখে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে আইনজীবীকে নির্দেশ দেন।

আদালত বলেন, আপনার ক্লায়েন্টকে দুপুরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আসতে বলেন, নইলে আমরা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবো।

এ সময় ট্রাইব্যুনালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহকে দাঁড় করিয়ে রাখেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তলব করে ট্রাইব্যুনাল।

এরপর গত ৬ নভেম্বর চ্যানেল২৪ এর বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার জবাব দাখিল করেছেন তাদের আইনজীবী আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া গত ১০ অক্টোবর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে তার লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং তিনি নিজে শুনানি করতে আবেদন করেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় বরাবর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বেসরকারি চ্যানেল টোয়েন্টিফোর কর্তৃপক্ষসহ আটজনকে বিবাদী করে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, তুরিন আফরোজ, সুলতান মাহমুদ সীমন, তাপস কান্তি বল, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি ও রেজিয়া সুলতানা চমন এ আবেদন দাখিল করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ এর ১১(৪)ধারা মোতাবেক কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা, জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

একই সঙ্গে তাদের অভিযুক্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা করার আবেদন করা হয়।

আবেদনে বাকী বিবাদীরা হলেন, চ্যানেল ২৪ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী পরিচালক, হেড অব প্রোগ্রাম, মুক্তবাক নামন অনুষ্ঠানের প্রডিউসার এবং ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মাহমুদুর রহমান মান্না।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চ্যানেলে২৪ এর রাত এগারটার ‘মুক্তবাক’ নামক টকশোতে ট্রাইব্যুনালের বিচার বিষয়ে এই মন্তব্য করেন।
টক শোতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপতি শামীম হাসনাইন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন তাকে দেয়া হয়নি। তাহলে কি বিচারের বাণী নিভৃতে কাদঁবে না?’

এছাড়া টক শোতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাফাই সাক্ষীদের নিয়ে মন্তব্য করারও অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।