পূর্বের অপহরণগুলোর বিচার হলে এটি ঘটত না: রিজওয়ানা

পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক রিজওয়ানা হাসান তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের অপহরণ ও মুক্তির রহস্যের পূর্ণ উদ্ঘাটন চান । তিনি বলেছেন, “আগের অপহরণ ঘটনাগুলোর বিচার হলে এ ঘটনা ঘটত না। আমি চাইব এটিই শেষ ঘটনা হোক।”
রাজধানীর ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে নিজ বাসায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে প্রায় আধঘণ্টা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে স্বামী আবু বকরও উপস্থিত ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তার স্বামীর অপহরণ ঘটনা পরিকল্পিত কি অপরিকল্পিত, সেটা তিনি জানেন না উল্লেখ করে রিজওয়ানা বলেন, “কেন তাকে ধরে নেয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি (সিদ্দিক) স্পষ্টভাবে কোনো ধারণা করতে পারেননি। তবে এবি সিদ্দিককে যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানকার লোকজনের কথাবার্তায় মনে হয়েছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটেছে বা ঘটে। শুধু তার (সিদ্দিক) ফিরে আসাতে দেশবাসী আশ্বস্ত হতে পারছে না। নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হওয়া উচিত।”
 

বেলার নির্বাহী পরিচালক বলেন, অপহৃত হওয়ার শুরু থেকে ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তার স্বামী। তাকে আটক রাখার জায়গারও একটা আনুমানিক বর্ণনা দিয়েছেন্ তিনি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাঁচ সদস্যের যে কমিটি হয়েছে, তারা এবি সিদ্দিকের জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে এগোতে পারে।
রিজওয়ানা বলেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো মহল ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারে। এমন সম্ভাব্যদের পরিচয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। তাদের সবাই প্রভাবশালী। গণমাধ্যমে তাদের নাম উল্লেখ করলে তারা প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চান না তিনি।
সম্প্রতি ধানমন্ডিতে মাঠ দখলের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, তা নিয়ে শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদেরসহ অন্যদের কাছ থেকে কোনো চাপ রিজওয়ানার পরিবারের প্রতি ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে কথা বলা অগ্রহণযোগ্য একটি কাজ। যেমন একজনকে গালি দেয়া কি ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ না? সেটা আমাদের বাস্তবতায় প্রেশার হতেও পারে। ওই মুহূর্তে আমি কোনো প্রেশার ফিল করিনি। কারণ আমি ভেবেছি তার স্বার্থে আমার বক্তব্য আঘাত লেগেছে। কিন্তু যখন অপহরণ হয়ে যায়, তখন এ ঘটনাগুলোই কিন্তু আমার সামনে চলে আসে। কে কখন আমাকে অপমান করার চেষ্টা করেছে, কে কখন হেয় করার চেষ্টা করেছে, অনাবশ্যক অপ্রাসঙ্গিক আমাকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছে। তখন এসব বিষয় ফ্যাক্টর হয়ে যায়। প্রেশার হয়তো বা না।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা বলেন, “এই অপহরণের ঘটনা আমাকে আমার কাজ থেকে দূরে রাখার কৌশল হতে পারে। হয়তো বা এমনও হতে পারে, এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আগামী এক মাস কোনো কাজই করতে পারব না। এ জন্য যে আমি ভয় পেয়ে বেলার কার্যক্রম গুটিয়ে নেব, এটা হতেই পারে না। ”
রিজওয়ানা বলেন, “এর আগে দেশে যেসব গুম-অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, এই ৩৫ ঘণ্টায় তাদের স্বজনদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেছি। আগের ঘটনাগুলোর বিচার হলে এ ঘটনা (এ বি সিদ্দিক অপহরণ) ঘটত না। আমি চাইব, এটিই শেষ ঘটনা হোক।”

এ বি সিদ্দিক অপহরণের পর তারা রাষ্ট্রীয় সমর্থন পেয়েছেন উল্লেখ করে রিজওয়ানা বলেন, “এ ঘটনার পর খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া, এইচ এম এরশাদ, রওশন এরশাদ উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের উদ্বেগের কারণেই আমার স্বামীকে দ্রুত ফিরে পেয়েছি।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার স্বামীকে অপহরণের পর থেকে গণমাধ্যম আমাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া তাকে ফেরত পাওয়া সম্ভব হতো না। রাজনীতিবিদরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখেছেন।” একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি দেশবাসীর কাছে সাংঘাতিকভাবে ঋণী।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।