জামায়াতে ইসলামীর বিচার নিয়ে সাবেক ও বর্তমান আইনমন্ত্রী মুখোমুখি অবস্থান

মানবতাবিরোধী অপরাধে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও বর্তমান আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মুখোমুখি অবস্থানে।

 

 

ট্রাইব্যুনাল আইনে জামায়াতের বিচার করা যায় না মর্মে সম্প্রতি আইনমন্ত্রীর এক বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।  ওই বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, জামায়াতের মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় কোনো মামলার বিষয়ে কারোই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন না। রোববার আইনজীবী সমিতির নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার শফিক এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, জামায়াতের বিচার হবে কিনা তা ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয়। এ নিয়ে বিতর্ক করার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াতের বিচার হবে কি না। তার মতে, আদালতের বিষয়বস্তু নিয়ে বাইরে থেকে বক্তব্য দেয়া স্বাধীন বিচার বিভাগে বাধা। আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শফিক আহমেদ আইনমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির বিচারের পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী করা হয়।

 

 

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা এখনই সম্ভব নয়, কারণ যে আইনের অধীনে সংগঠনটির বিচার হওয়ার কথা রয়েছে সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধিগুলো জামায়াতের বিচারের জন্য যথেষ্ট নয়।

 

 

প্রসঙ্গত সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের জন্য ইতিমধ্যে এ মামলার তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য বিষয়টি এখন প্রসিকিউশন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছেন। তবে এ নিয়ে প্রসিকিউশনের মধ্যেও কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।