কিভাবে সরকারকে টেনে ক্ষমতা থেকে নামাতে হয় তা আমাদের জানা আছে: ইমরান

সরকারের মধ্যে কোনো মহল জামায়াতকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে অভিযোগ করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, আমরা কেন তার প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। আমি বলতে চাই আমরা আস্থা রেখেছি বলেই এখনো আন্দোলন করছি। না হলে কিভাবে সরকারকে টেনে ক্ষমতা থেকে নামাতে হয় তা আমাদের জানা আছে।”

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণাও দেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সকালে আইন মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তি ও পুলিশের লাঠিপেটায় মঞ্চের দুই কর্মী আহত হন। এরপর দোয়েল চত্বরে অবস্থান নিয়েই বিক্ষোভ করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। পরে ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেয়া হয়।

এসময় যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে ইমরান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রতি আমাদের আস্থা নষ্ট করবেন না। যে সব বুদ্ধিজীবী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছে তাদের ছেঁটে ফেলুন। সেসব বুদ্ধিজীবীর ভূত নামিয়ে ফেলুন।”

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, “একজন মন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবি করছে তারা বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চায়। যে মন্ত্রী ফুল নিয়ে জামায়াত নেতাদের বরণ করে নেন তার কাছে গণজাগরণ মঞ্চকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শিখতে হবে না।”

যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষের সমাবেশের কথা স্মরণ করিয়ে ইমরান বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চের শক্তি এক বছরেই ভুলে গেছেন? ভেবেছেন পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে, দলীয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে, বিভাজন সৃষ্টি করে গণজাগরণ মঞ্চ শেষ হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “এখনো সময় আছে জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান থেকে সরে আসুন। অন্যথায় আরেক দফা রাস্তায় নামলে এর মূল্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই দিতে হবে।”

যারা জামায়াতকে রক্ষা করতে চায় ‘ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে’ তাদের অবস্থান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মামলা এবং বিচার করা আপাতত সম্ভব নয়।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মিছিল সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। ওইদিন শাহবাগে মঞ্চের সমাবেশ থেকে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ২ জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়। অন্যথায় আইন মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয় সংগঠনটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।