হবিগঞ্জের অস্ত্রের সঙ্গে দশ ট্রাক অস্ত্রের মিল, দাবি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদের সঙ্গে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র্রের মিল রয়েছে। এ ব্যাপারে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বে হবিগঞ্জের সাতছড়ি এলাকায় গভীর জঙ্গলে দু’দিন আগে বিশেষ বাহিনী র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র,গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। সেখানে র‌্যাবের তল্লাশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জের জঙ্গলে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদের গায়ে কিছুই লেখা ছিল না বলে  র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে সেগুলো কোথায় তৈরি হয়েছিল, তার কোনো চিহ্ন তারা পাননি। দশ বছর আগে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদের সাথে হবিগঞ্জে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের কোন মিল আছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছিল র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমেও নানান খবর প্রকাশ হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা আগে আটক দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদের সাথে এখন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মিল পেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, “২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ যে আটক হয়েছিল, ওই একই ধরণের অস্ত্র, গোলাবারুদ হবিগঞ্জে পাওয়া গেলো।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন,“চট্টগ্রামে দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র দশ বছর আগে যখন আটক হয়েছিল, সে সময়ই হবিগঞ্জে এসব অস্ত্র রাখা হয়েছিল কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে। কারণ হবিগঞ্জে এই অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ অনেকদিন আগেই হবিগঞ্জের জঙ্গলে রাখা ছিল, যেটা আমাদের গোয়েন্দারা বের করেছে। অতিসম্প্রতি নয়, এটা অনেক দিনের ঘটনা- কারণ মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে রেখেছে। অনেক সময় নিয়ে এটা করেছে।”

 
তবে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক দশ ট্রাক পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ সম্পর্কিত মামলার বিচার কার্যক্রমে উঠে এসেছে যে, সেগুলো ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের জন্য। এখন ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের চার কিলোমিটার ভিতরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়িতে গভীর জঙ্গলে অস্ত্র,গোলাবারুদ উদ্ধার হলো।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, অস্ত্র এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলার তদন্তে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এসব আনা হতে পারে। জঙ্গি তৎপরতার জন্যও হতে পারে। এছাড়া ভারতীয় কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীরও হতে পারে। এই তিনটি সন্দেহের বিষয়েই তদন্তে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।”

র‌্যাবের অভিযানে হবিগঞ্জের জঙ্গলে গত মঙ্গলবার এবং বুধবার দু’দিনে দু’শর মতো ট্যাংক বিধ্বংসী গোলা, একটি রকেট লঞ্চার , কয়েকটি মেশিনগান এবং প্রায় তেরো হাজার রাউন্ড গুলি এবং রকেট লঞ্চারের অনেকগুলো চার্জার উদ্ধার হয়। সেখানে বিভিন্ন টিলায় সাতটি বাংকার এবং সুড়ঙ্গেরও সন্ধান মেলে। তবে অব্যাহত অভিযানে নতুন করে কিছু পাওয়া যায়নি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান বলেছেন, তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। র‌্যাব ওই পুরো জঙ্গলে এখন অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে, ঘটনার ব্যাপারে এখনও কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি এবং কেউ আটকও হয়নি।– বিবিসি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।