পুলিশে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, ঘুষ-দুর্নীতির নিত্যদিনের অভিযোগ

সারা দেশে মাঠ পর্যায়ের কোনো কোনো পুলিশ সদস্যের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। ঘুষ-দুর্নীতির নিত্যদিনের অভিযোগ ছাপিয়ে খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের।

শাহ আলম নামে এক গাড়িচালকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে ২৪ অক্টোবর তার দুই পায়ে গুলি করেন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আনোয়ার। শাহ আলমের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে আনোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১ নভেম্বর এক চাকরিজীবীকে ফাঁদে ফেলে তার পরিবারের কাছে দুলাখ টাকা দাবি করে ভাটারা থানার দুই এএসআই ও এক কনস্টেবল। টাকা নেয়ার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করে র্যা ব।

২০ অক্টোবর  রাতে মকবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ ওঠে বংশাল থানার তিন পুলিশের বিরুদ্ধে। ১২ জুলাই রাতে রাজধানীর শাহআলী এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান সুজনকে থানায় নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া আর শৃঙ্খলার অভাবেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানু্র রহমান।

মানবাধিকার সংগঠন- আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ক্রসফায়ারে ১১৮ জন ও শারীরিক নির্যাতনে ১৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ৮১ জন ও র্যা বের বিরুদ্ধে ৩১ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ৮২ জনকে অপহরণেরও অভিযোগ আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজিবি কোস্টগার্ড ও যৌথবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে ১৬ জন।

এ প্রবণতা রোধে সাদা পোশাকে গ্রেফতার ও টহল বন্ধ করাসহ সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে মানবাধিকার কমিশন। চলতি বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে করা ৮৯০টি অভিযোগ আমলে নেয় পুলিশ প্রশাসন।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান মনে করেন, কমিশনার দেয়া সুপারিশগুলো সরকার বাস্তবায়ন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।