কুমিল্লা-৯ নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমন

কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে শাসক দল আ’লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সৌদি আরব, বৃহত্তর কুমিল্লা আওয়ামী পরিবার সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মক্কা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন গত সপ্তাহ ব্যাপি উপজেলার মৈশাতুয়া, উত্তর ঝলম ও দক্ষিণ ঝলম ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লা ও হাটবাজার তথা অলি-গলিতে ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন গনসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথ সভায় তিনি বলেন, আগামী ৩০ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিজয়ের প্রতীক নৌকা মার্কার সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে এ আসনের প্রতিটি গ্রামকে পর্যায়ক্রমে শহরে রূপান্তরিত করা হবে।

ইতিমধ্যে ভোটের রাজনীতিতে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে সব কটি এলাকায় নৌকা মার্কার গণজোঁয়ার উঠেছে। কোন অপশক্তি এই গণজোঁয়ারকে ঠেকাতে পারবে না।


আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার গণসংযোগকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকা হলো উন্নয়নের প্রতিক, নৌকার সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। তাই ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে প্রিয় নেতা তাজুল ইসলামকে বিজয়ী করবেন। গত ১০বছরে এ অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় শত ভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে অত্র অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের পাশা-পাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হবে।

প্রবাসী সুমন নিজ এলকা ছাড়াও নেতা-কর্মীদের আহ্বানে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগে অংশনেন।


প্রবাসী সুমন আরো বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা তাজুল ইসলাম ৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। শত শত রাস্তাঘাট, কালবার্ট, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে।
গনসংযোগ কালে সফর সঙ্গী হিসাবে মনোহরগঞ্জ উপজেলার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্চা সেবক লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমন বিগত কয়েক দিন যাবত স্থানীয় সাংসদ ও শাসকদলীয় প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলামের নৌকা মার্কার পক্ষে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে সফরসঙ্গী হিসাবে গনসংযোগ করেন।

নৌকা মার্কায় ভোট দিন, আমি আপনাদের উন্নয়ন উপহার দেবোঃ লাকসামে উঠান বৈঠকে তাজুল ইসলাম

আগামী ৩০ডিসেম্বর আসন্ন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিন, আমি আপনাদের উন্নয়ন উপহার দেবো, লাকসাম পৌরসভা ও বাকউ ইউনিয়নের বিভিন্ন উঠান বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি।

তিনি আরো বলেন, নৌকায় ভোট দেয়ার মানেই দেশে উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়। নৌকার কারণেই সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ঘটেছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করলে এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা ও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে। আমার আমলে শত শত রাস্তা-ঘাট, পোল-কালবার্ট, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান শাসন আমলে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ কে সরকারীকরণ করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলাকে একসময় জলাঅঞ্চল বলা হত। বর্ষাকালে এ অঞ্চলের মানুষ নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারতো না। গ্রীষ্মকালে পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি গ্রামে মানুষ গাড়ী নিয়ে চলাচল করতে পারে। এগুলো এক মাত্র উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কারনে। বিভিন্ন উঠান বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি যে উন্নয়ন গুলো আপনাদের সামনে তুলে দরেছি তার সিকি পরিমানও কি বিগত সরকারের আমলে কেউ করেছে? তা যদি অন্য কেউ না করে থাকে, তাহলে আমি যেহেতু উন্নয়ন করেছি সেহেতু আমি আপনাদের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রাখি। তাই আগামী ৩০ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ তথা এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন।

আজ মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে বাকই ইউনিয়নের বরইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় বিজরা দেওয়ান বাড়ী, কৈত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অপর দিকে একইদিন বিকেলে লাকসাম পৌর এলকার গুন্তি, গাজীমুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামৈচা উত্তর পাড়া মন্দির সংলগ্ন উঠান বেঠকে ও লাকসাম হাই স্কুল মাঠে দৌলগঞ্জ বাজারের ব্যাবসায়িদের সাথে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন।

উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইউনুছ ভুইয়া, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব এসহাক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল খায়ের, আওয়ামীলীগ নেতা মেজর (অবঃ) হাবিবুর রহমান মজুমদার, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশিদা বেগম, পৌর কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন, আবদুল আলিম দিদার, আফতাব উল্লাহ চৌধুরী ঝন্টু, গোলাম কিবরিয়া সুমন, খলিলুর রহমান, শাহজাহান মজুমদার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ওমর মিয়া, বাকই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন সহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন : লাকসাম গাজীমুড়ায় উঠান বৈঠকে মোঃ তাজুল ইসলাম



নৌকায় ভোট দেয়ার মানেই দেশে উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়। কাজেই আগামী ৩০ডিসেম্বও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশ তথা এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন। ইতি পূর্বে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার কারণেই সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ঘটেছে। তাই এ নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করলে এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা ও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে লাকসাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের গাজীমুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি এ কথা গুলো বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, আমার আমলে লাকসাম পৌরসভায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হয়েছে। শত শত রাস্তা-ঘাট, পোল-কালবার্ট, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান শাসন আমলে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ কে সরকারীকরণ করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলাকে একসময় জলাঅঞ্চল বলা হত। বর্ষাকালে এ অঞ্চলের মানুষ নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারতো না। গ্রীষ্মকালে পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি গ্রামে মানুষ গাড়ী নিয়ে চলাচল করতে পারে। এগুলো এক মাত্র উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কারনে। তাই আগামী ৩০ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ তথা এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

উঠান বৈঠক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট ইউনুছ ভুইয়া, লাকসাম পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ তাবারক উল্লাহ কায়েস, জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু তাহের, সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা মেজর (অবঃ) হাবিবুর রহমান মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব এসহাক মিয়া, পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজাহান মজুমদার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি কবির হোসেন, যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সাখন, আক্তার হোসেন মিলন সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভাল ও সুখে থাকতে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে: লাকসামে বিভিন্ন পথ সভায় তাজুল ইসলাম

নৌকা মার্কার সরকারক আবার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে পর্যায়ক্রমে শহরে রূপান্তরিত করা হবে। ভাল থাকতে ও সুখে থাকতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করুন। সারা দেশের ন্যায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জেও নৌকার গণজোঁয়ার উঠেছে। কোন অপশক্তি এই গণজোঁয়ারকে ঠেকাতে পারবে না। তাই সকল শংশয় ভুলে নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন।

আজ মঙ্গলবার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পথ সভায় কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের আওয়ামীলীগ ও মহাজোটে মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন নৌকা হলো উন্নয়নের মার্কা, নৌকার সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। তাই ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনা নৌকাকে বিজয়ী করবেন।

নির্বাচনী পথসভায় মোঃ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, গত ১০বছরে আপনাদেও এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। লাকসাম মনোহরগঞ্জ উপজেলায় শত ভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। খিলা ও মুদাফরগঞ্জ ২টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে এবং লাকসাম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইতি মধ্যে জমি অধিগ্রহন কাজ শুরু হয়েছে। এটা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে অত্র অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের পাশা-পাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এই গ্রাম অঞ্চল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শহর এলাকায় রুপান্তরিত হবে। তিনি আরো বলেন, ৯৬ সালের পূর্বে বিএনপি থেকে আলমগীর ও ২০০১ সালে কর্ণেল (অবঃ) এম আনোয়ারুল আজিম আপনাদের এলাকায় সংসদ সদস্য ছিলেন। ওই সময় তারা কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। বরং উন্নয়ন হয়েছে তাদের নীজেদের। আমি ৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। শত শত রাস্তাঘাট, কালবার্ট, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে। লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজকে সরকারী করন করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলাকে একসময় জলাঅঞ্চল বলা হত। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারতো না। গ্রীষ্মকালে পায়ে হাটা ছাড়া কোন বিকল্প ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি গ্রামে মানুষ গাড়ী নিয়ে চলা চল করতে পারে। এগুলো এক মাত্র উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কারনে। সব উন্নয়ন আমি করেছি। তাই আপনাদের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার একমাত্র আমারই আছে।


ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন,  লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইউনুছ ভুইয়া,
জেলা পরিষদের সদস্য এডভোকেট আবু তাহের, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি তাবারক উল্লাহ লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, জাতীয় পাটির লাকসাম উপজেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সহ দু’উপজেলার আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।।

উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় আবারো ভোট দিন: মনোহরগঞ্জে বিভিন্ন পথ সভায় তাজুল ইসলাম

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পথ সভায় নৌকায় ভোট ছাইলেনে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনের মহাজোটের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম।

আজ সোমবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ও বিপুলাসার ইউনিয়নের ১১টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী পথসভায় বিগত আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি নৌকায় ভোট চান এবং বলেন নৌকায় ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হয়। মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আর বিএনপিকে ভোট দিলে দেশ পিছিয়ে যাবে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে ভরে যাবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। সারা দেশের ন্যায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জে যত উন্নয়ন হয়েছে তা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার থাকাকালীন আমার আমলে হয়েছে। দু’ইউনিয়নের ১১টি ভোটকেন্দ্রের পথসভা ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতে জনসভায় রুপান্তরিত হয়। বিভিন্ন পথ সভায় জমায়াত, বিএনপি থেকে প্রায় শতাধিক নেতা-কমী আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

নির্বাচনী পথসভায় মোঃ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, গত ১০বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। লাকসাম মনোহরগঞ্জ উপজেলায় শত ভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। খিলা ও মুদাফরগঞ্জ ২টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে এবং লাকসাম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইতি মধ্যে জমি অধিগ্রহন কাজ শুরু হয়েছে। এটা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে অত্র অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের পাশা-পাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এই গ্রাম অঞ্চল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শহর এলাকায় রুপান্তরিত হবে। তিনি আরো বলেন, ৯৬ সালের পূর্বে বিএনপি থেকে আলমগীর ও ২০০১ সালে কর্ণেল (অবঃ) এম আনোয়ারুল আজিম আপনাদের এলাকায় সংসদ সদস্য ছিলেন। ওই সময় তারা কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। বরং উন্নয়ন হয়েছে তাদের নীজেদের। আমি ৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। শত শত রাস্তাঘাট, কালবার্ট, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কার করা হয়েছে। লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজকে সরকারী করন করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলাকে একসময় জলাঅঞ্চল বলা হত। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারতো না। গ্রীষ্মকালে পায়ে হাটা ছাড়া কোন বিকল্প ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি গ্রামে মানুষ গাড়ী নিয়ে চলা চল করতে পারে। এগুলো এক মাত্র উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কারনে। সব উন্নয়ন আমি করেছি। তাই আপনাদের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার একমাত্র আমারই আছে।

ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন, জাতীয় পাটির লাকসাম উপজেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জেলা পরিষদেও সদস্য ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী এডভোকেট তানজিনা আক্তার, মনোহরগঞ্জ উপজেলা ্আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল কাউয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আলম কুসুম সহ দু’উপজেলার আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থসামাজিক পরিবর্তন ঘটেছে : লাকসামে উঠান বৈঠকে তাজুল ইসলাম এমপি

কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই গত ১০ বছরে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থসামাজিক পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছি। পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি-হানাহানি-মারামারিসহ সকল অপকর্ম বন্ধ করে এলাকায় শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর আপনারা আবার নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্বনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তারই ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেতন মানুষ এবারো স্বাধীনতার প্রতীক নৌকায় ভোট দিবেন। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাই চান শেখ হাসিনার সরকার আবার ক্ষমতায় আসুক। সেটা করতে হলে এ আসনে নৌকার বিজয়ের বিকল্প নেই।

আজ সোমবার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের ছিলইন, বড়বাম, চড়বাড়িয়া, কৃষ্ণপুর, আজগরা, ঘাটার ও লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের নরপাটি, ফুলগাঁও, পেঁচরা, এলাইচ ও দিঘিরপাড় এলাকায় উঠান বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইউনুছ ভূঁইয়া, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাবারক উল্যাহ কায়েস, উপজেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাশেদা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ উল্লাহ মজুমদার, জয়নাল আবদীন খলিফা, আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, আবদুল লতিফ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অধ্যাপক আবুল খায়ের, যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম রতন, আবদুল আলিম দিদার, নুরুননবী রতনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে চূড়ান্তভাবে এবারো আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো এমপি হন তিনি। ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো এমপি হন মোঃ তাজুল ইসলাম।

আব্বাস দম্পতির প্রার্থিতা বৈধ

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) ইসির অস্থায়ী এজলাসে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের করা আপিল (৪৪৪ নম্বর) শুনানি শেষে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বহালের আদেশ দেয় কমিশন। এর পরপরই আব্বাসপত্নীর প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহাল রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।

 

একই দিন (২ ডিসেম্বর) ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা না দেয়ায় আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ টেলিকমের কাছ থেকে আফরোজা আব্বাসের ঋণখেলাপি থাকার কথা সেসময় জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানির তৃতীয় দিন চলছে। আজ শুনানির শেষদিনও।

আপিল শুনানির প্রথম দিনে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী ১ থেকে ১৬০, দ্বিতীয় দিন ৭ ডিসেম্বর ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর প্রার্থীর আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানির শেষদিন আজ (৮ ডিসেম্বর) ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি হয়।

প্রতিটি আবেদনের শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গে রায় জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপিও সরবরাহ করা হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩ প্রার্থী আপিল করেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয় আপিল শুনানি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।

আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন, প্রতীক বরাদ্দ কাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ রবিবার। বিকাল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা বার্তা বাহকের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। এদিকে আগামীকাল সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। ওইদিন বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আজ বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন হলেও গত কয়েকদিনে অনেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে ইসির কর্মকর্তাদের ধারণা। ইসির নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে আজ বিকালের মধ্যে বৈধ দলীয় ও জোটভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। কেননা বর্তমানে একটি আসনে রাজনৈতিক দল বা জোটের একাধিক বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সালের ১৬(২) ধারা অনুযায়ী, বৈধ একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বা সমমর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষরে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠাতে হবে। দলের পক্ষ থেকে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হলে বাকিদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে। যদিও আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসাররা ৩০০ আসনের বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মূলত প্রচার শুরু হবে প্রার্থীদের। ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। পরে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

পোস্টালে ভোট দিতে পারবেন বিদেশিরা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপারের জন্য বিদেশ থেকে ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।

দরখাস্ত ডাকযোগে বাংলাদেশে পৌঁছার পর প্রবাসীর দেয়া বিদেশের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তারপর পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনরায় ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৩০ ডিসেম্বরের আগে ফেরত পাঠাতে হবে।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে দূতাবাসগুলোকে অবহিত করার জন্য সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসলামাবাদ, রিয়াদ, দিল্লি, কুয়ালালামপুর, দুবাই, নিউইয়র্ক, লন্ডন, ওয়াশিংটন, অটোয়া, রোম, প্যারিসসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রবাসী যাদের বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ড আছে, যারা নির্বাচনের সময়ে ভোট দিতে বাংলাদেশে আসবেন না এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ভোট দিতে আগ্রহী, তাদের শিগগিরই নিজ নিজ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে (জেলা প্রশাসক) পোস্টাল ব্যালটের জন্য দরখাস্ত পাঠাতে হবে।

দরখাস্তে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নম্বর, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অপর পৃষ্ঠায় থাকা ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। বিদেশে যে ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে, ওই ঠিকানা অবশ্যই দরখাস্তে উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে খামে করে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে, তার ডাক টিকিট খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করবে। প্রবাসীরা ব্যালট পেপারের জন্য যে দরখাস্ত পাঠাবেন, তার ডাকটিকিট খরচ প্রবাসীদের বহন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা

মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছে। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের উদ্দেশে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ছোঁড়া পাটকেলে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল আহত হন।

ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা।নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা চেয়ারপারসন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতেও তারা হামলা করে। তবে এতে ফখরুলের গাড়ি চালক হেলাল ছাড়া আর কেউ আহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শনিবার রাত আড়াইটায় মির্জা ফখরুল গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ ৩০ মিনিট চেষ্টা করেও তিনি কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) একটি মানববেষ্টনী তৈরি করে তাকে ঘিরে গুলশান-২ নম্বর চত্বরের দিকে নিয়ে যান।

সে সময় মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত গাড়িটি কার্যালয় থেকে খালি বেরিয়ে মূল সড়ক থেকে ফখরুলকে তুলে নিয়ে যায়। এর আগে সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা আন্দোলন করে। মধ্যরাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গেইট ভেঙে তারা কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে। গেটের অপর পাশ থেকে সিএসএফের কর্মকর্তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

জানা গেছে, মনোনয়নবঞ্চিত এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা ফখরুলের পথ আটকে তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখেন।

তাদের সঙ্গে যোগ দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও মানিকগঞ্জে প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

তারা গুলশান কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ভেঙে যায়।

বাইরে যখন বিক্ষোভ চলছিল, সেসময় ভেতরেই ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খানসহ সিনিয়র কয়েক নেতা।

পরিস্থিতি শান্ত করতে দেলোয়ারের দুই ছেলে ও মেয়েকে কার্যালয়ের ভেতরে ডেকে নেয়া হয়। এ সময় নজরুল ইসলাম খান তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেলোয়ারের সন্তানরা নজরুল ইসলাম খানের কাছে জানতে চান, এ দলে কি তার বাবার কোনো অবদান নেই।

মনোনয়ন তো দূরের কথা, তাদের কেন কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হল না। এ সময় নজরুল ইসলাম খান তাদের শান্ত হতে বলেন। বাইরে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের চলে যেতে বলেন। কার্যালয়ের নিচ তলায় তাদের অপেক্ষা করতে বলেন নজরুল।

এরপর তৈমুর আলম খন্দকারকে ভেতরে ডাকেন নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তৈমুর ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমি কার্যালয়ের বাইরে আছি। মহাসচিবসহ আপনারা কীভাবে বাইরে বের হন, তা আমি দেখে নেব। এ বলে তিনি নিচে চলে আসেন।

দুপুরে চাঁদপুর-১ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। মূল গেটে প্রতিবাদ মিছিল লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বিক্ষোভে অংশ নেন চাঁদপুরের কচুয়া থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বেবী সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

এরপর প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বিএনপির নেতা আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুসারী নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয়ের ফটকের তালা খুলে দেন। এরপর তারা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে তারা তাদের ক্ষোভের কথা জানান।

বিক্ষোভরত মিলনের একাধিক সমর্থক অভিযোগ করেন, এহছানুল হক মিলনের জায়গায় চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনকে এলাকায় কেউ চেনেন না।

সারা জীবন তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। এহছানুল হক মিলন পাঁচ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তার সঙ্গে এলাকার মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখনও তিনি জেলে আছেন, তার ত্যাগকে মূল্যায়ন করা হয়নি।

মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে যারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তাদের পক্ষেই নেতাকর্মীরা ‘একট্টা’।

মনোনয়ন নিয়ে ছোটখাটো দুই-একটি প্রতিক্রিয়া- এটা কি নতুন কিছু? এটা নতুন নয়। বরং যাদের দেয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত জনপ্রিয় তাদের এলাকায়। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে এলাকায় তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত নিবিড়। যোগ্যদেরই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় অধ্যক্ষ ইউনুস ওএম মজিবুল হকের প্রার্থীতা বৈধ; বিপাকে বিএনপি!

নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পেয়েছেন কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইউনুস এবং কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী কে এম মজিবুল হক। এ দুই নেতার প্রার্থিতা বৈধতায় সমর্থক-কর্মীদের মাঝে আনন্দ বয়ে গেলেও একক প্রার্থী বাছাই নিয়ে কিছুটা জটিলতা বেড়েছে দলে, বিপাকে পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা। সেই সাথে শঙ্কা জেগেছে এ দুটি আসনে বিএনপির অন্য দুই প্রার্থীর শিবিরে।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে চারবারের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ ইউনুসের সাথে মনোনয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। অপরদিকে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে মজিবুল হকের সাথে মাঠে আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী সাহিদা রফিক।

এমনিতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টির আসনের মধ্যে ১০টিতেই (কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসন ছাড়া) একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সব মিলিয়ে দলটি থেকে জেলায় প্রার্থী আছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে তিনজন আছেন দুটি করে আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায়। যদিও নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর ঠিক করার সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে জানানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর সময় কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতার বৈধতা হারান কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও চারবারের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মো. ইউনুস এবং কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী কে এম মুজিবুল হক।

বাছাইয়ে অধ্যক্ষ মো. ইউনুসের সব কাগজপত্র সঠিক থাকলেও নোটারি যে আইনজীবী করেছেন, তার নোটারি রেজিস্ট্রেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ইউনুসের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অপর দিকে আয়কর সনদ জমা না দেয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয় কে এম মজিবুল হকের মনোনয়নপত্রটি। যদিও মজিবুল সে সময় দাবি করেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্রের সাথে আয়কর সনদ জমা দিয়েছেন এবং এর ভিডিও ফুটেজ ও ছবি তুলে রেখেছেন। তখন তাকে ইসিতে আপিলের পরামর্শ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।

অবশেষে ইসিতে আপিল করে বৃহস্পতিবার মনোনয়নের বৈধা ফিরে পান মো. ইউনুস ও মজিবুল হক। আপিল আবেদনের শুনানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী এজলাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে এ শুনানি হয়।

এদিকে এ দুই প্রার্থীসহ জেলার ১০টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে কিছুটা বিপাকে রয়েছেন। সব আসনেই বাছাইয়ে বৈধতা পেয়েছেন দলটির একাধিক প্রার্থী। শুধুমাত্র চান্দিনা- আসনেই কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। সে আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোয়ন পেয়েছেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।

কুমিল্লার ১০টি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকার বিষয়টিকে জটিলতা বলতে নারাজ দলের দক্ষিণ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। দলে কোন্দল-বিভেদ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত দল যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবে। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি আগামী নির্বাচনে জেলার সব কটি আসনই পুনরুদ্ধার করবে।

জেলা রির্টার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-হোমনা) ও কুমিল্লা-২ (মেঘনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার পুত্র দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ড. খোন্দকার মারুফ আহমেদ। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে দলটির প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান। কুমিল্লা-৬ (সদর-মহানগর) আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি কারাবন্দী মনিরুল হক চৌধুরী এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া প্রার্থী হয়েছেন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে দলটির প্রার্থী সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন ও কেন্দ্রীয় যুবদলের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম ও লাকসাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মফিজুর রহমান। কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি কারাবন্দি মনিরুল হক চৌধুরী, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূইয়া ও বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য মীর আবু জাফর শামসুদ্দীন দিদার।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী নাছিমুল হক।

মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় কুমিল্লার ডিসিকে মির্জা ফখরুলের ফোন!

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর ভিন্ন ভিন্ন পরিলক্ষিত হলে কিছুটা ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।

ফলে মনিরুল হক চেবৗধুরী, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন (শামসুদ্দিন দিদার) ও মো: মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।

এসময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং অফিসারকে তাদের মনোনয়ন পত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর সঠিক বলে দাবি করেন এবং মনোনয়নপত্র
বৈধ ঘোষণার দাবি জানান।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল ফজল মীর সত্যতা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বললে প্রার্থীরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রধান রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং স্বাক্ষরগুলো তাঁর বলে জানান।

পরে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। তবে এ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে মঞ্জুরুল মুন্সীর বাহাস
কুমিল্লায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাইকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে বাহাস হয়েছে দেবীদ্বার আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাহাস হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র যাছাইয়ের সময় ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এসময় রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে বাহাসে জড়িয়ে পড়েন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, তার ছেলে ব্যারিষ্টার রেজভিউল আহসান। পরে তারা রিটার্নিং অফিসারকে হাইকোর্টের এক আদেশ দেখান।

এসময় ১২টা ২ মিনিট থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তাদের মধ্যে যুক্তিতর্ক হয়। এরপর রিটার্নিং অফিসার প্রতিনিধি ও মঞ্জুরুল আহসানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে আলাদা কক্ষে পাঠানো হয়।

ওই কক্ষ থেকে ১২টা ২৪ মিনিটে ফিরে তারা আবার বাকবিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ১২টা ৩৫ মিনিটে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবুল ফজল মীর বিষয়টি প্যান্ডিং করে পর্যালোচনার পর বিকেলে জানানো হবে বলে জানান।

বাকবিতান্ডার সময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি তার ছেলে রেজভিউল আহসান ও সমর্থকরা বলেন, ‘আপনি ডিসি, আপনাকে হাইকোর্টের অর্ডার মানতে হবে। না হয় আপনাকে বলতে হবে আপনি হাইকোর্টের অর্ডার মানেন না।

এসময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি বলেন, “আপনার জন্য এতোগুলো ফাইল বানিয়ে আনছি। যেন যেখানেই ধরেন সেখানেই উত্তর দিতে পারি। তিনি আরো বলেন, আমি ৪ বার নির্বাচন করেছি এই প্রথম রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কর্মকর্তা হাইকোর্টের অর্ডার মানেন না দেখছি।”

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির ছেলে রেজভিউল আহসান ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে এসময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বলেন “আইএম বার এট ল” আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। আপনারা আইন জানেন না তাই এমন অভিযোগ করছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যাংক আইনজীবীরা বলেন, আপনি আইন শেখানোর কে?

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আজ সকালে সিবিআই এর যে রিপোর্ট পেয়েছি সেখানে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সিকে ঋণ খেলাপি দেখানো হয়েছে। তবে তিনি হাইকোর্টের যে আদেশ এনেছেন তা পর্যালোচনা করে বিকেলে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

‘সরকারের ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালোবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালোবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার’? নির্বাচন কমিশন তুমি কার?’

সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন এবং একটা ছায়া হচ্ছে, একটা প্রলম্বিত ছায়া হচ্ছে, এই নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকাণ্ড। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সবই বাদ পড়ে গেলেন।’

রিজভী বলেন, উনাদের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা সবাই টিকে গেলেন? তো এখানেই বুঝতে পারেন যে, কার পরামর্শে নির্বাচন কমিশন চলছে। একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার?’ নির্বাচন কমিশন তুমি কার?’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়ার ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আরো একটি আক্রোশের শিকার হলেন। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

‘রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ছোট রুমটিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ওই ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত, সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ওই রুমে যেতে হয়।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভুল থাকার পরও ওই ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদের সাধু-সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।’

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও, তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের। এ ধরনের কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত হয়নি, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র।’

রিজভী বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে? লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।’

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক দণ্ডিত নেতার মনোনয়নপত্রও বৈধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

কুমিল্লা-৯ আসনে ১২ জনের মধ্যে ৯ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের মনোনয়ন জমাকৃত প্রার্থীদের গতকাল ২রা ডিসেম্বর রবিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং অফিসারে কার্যলয়ে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা এবং বিভিন্ন কারন দেখিয়ে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে। রোববার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই হয়েছে।

 

জানা যায়, এ আসনে গত থেকে ২৮শে নভেম্বর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যলয়ে বিভিন্ন দল ও সতন্ত্র মিলে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

২রা ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যলয়ে এদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা এবং বিভিন্ন ত্রুটির কারনে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়।

 

যাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন তারা হলেন, শাসক দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান এমপি মোঃ তাজুল ইসলাম, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি কর্ণেল অবঃ এম. আনোয়ারুল আজিম, সতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র মোঃ মফিজুর রহমান, সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) প্রার্থী সেলিম মাহমুদ, মহাজোটের শরিক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন প্রার্থী সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মোঃ আবু বাকার ছিদ্দিক, জাকের পাটির প্রার্থী এডভোকেট টিপু সুলতান এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী মোঃ আবদুল আউয়াল প্রমুখ।

 

এদিকে মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, ২৩ দলীয় জোটের শরিকদল জামায়াত সমর্থিত প্রাথী সাবেক সচিব ও ডিসি এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, ফয়েজ উল্যাহ ও মোঃ ইসমাইল প্রমুখ। এরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

কুমিল্লার ১১টি আসনে যাচাই বাছাই এ বাদ পড়া ৩৬ প্রার্থীর নামের তালিকা

 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় ১১ টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে ৩৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। ৯৮ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। রোববার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই হয়েছে।

 

জানা যায়, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ৩ জন, কুমিল্লা-২ আসনে ৫ জন, কুমিল্লা-৩ আসনে ১০ জন, কুমিল্লা-৪ আসনে ৫ জন, কুমিল্লা-৫ আসনে ৩ জন এবং কুমিল্লা-৬ আসনে ১ জন, কুমিল্লা-৮ আসনে ১ জন, কুমিল্লা-৯ আসনে ৩ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৩ জন ও কুমিল্লা-১১ আসনে একজনসহ সর্বমোট ৩৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

যার মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ইসলামি ঐক্যজোটের মোঃ আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলনের বশির আহমেদ ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মোঃ ইফতেখার আহসানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মনোয়ার হোসেন, জাসদ প্রার্থী বড়–য়া মনোজিৎ ধীমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আব্দুল মজিদ (আ’লীগের বিদ্রোহী) এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির কে.এম মজিবুল হক, গণ ফোরামের আকবর আমিন বাবুল, এনপিপির মো: নজরুল ইসলাম, জাগপার মো: আনিছ, মুসলিম লীগের সৈয়দ মোস্তাক আহাম্মদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব আহসানুল আলম সরকার কিশোর, কাজী জুন্নুন বসরী, গোলাম কিবরিয়া, দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে । এ আসনে ১৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজভিউল আহসান মুন্সি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো আবুল কালাম আজাদ (আ’লীগের বিদ্রোহী), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মাহবুবুল আলম, বিএনপি প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে । এ আসনে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ ইউনুস, ইসলামি ঐক্যজোটের মোঃ শাহ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম ইদ্রিস, গণফোরামের শেখ আব্দুল বাতেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে । এ আসনে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে । এ আসনে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৭ আসনে কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। এ আসনে ৮ জনের সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সার আলম সেলিমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে ১১ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ ফ এম সোলায়মান চৌধুরী (জামায়াত ইসলামি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ফয়েজ উল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইসমাইলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূইয়া, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোঃ আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমিন চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা-১১ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম বাবুলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আজ থেকেই আপিল করতে পারবেন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন, সোমবার থেকে তারা আপিল করতে পারবেন।

সারা দেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রবিবার যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দেন।

তবে নিয়মানুযায়ী, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা ৩ দিনের মধ্যে ইসিতে এ ব্যাপারে আপিল করতে পারবেন। আজ আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

শুনানি চলবে ৬ ডিসেম্বর থেকে টানা ৩ দিন। আপিলে যদি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে জানান (ইসির) উপসচিব আতিয়ার রহমান।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন। বাতিলের তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত দেখিয়ে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও সরকারপন্থী অনেকের প্রার্থিতা বহাল আছে।

এ প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের জয়লাভ এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ২০ দলীয় জোটের নেতা ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ।

ইসির নিয়মানুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কাজে উপস্থিত ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ বিভাগ, ইসির কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক, আয়কর বিভাগ, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রার্থী বা প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা।

রবিবার দেশের তিনশ’ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

এতে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৭৯ জন। সেই হিসাবে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেল।

তিনশ’ আসনের মধ্যে ঢাকা-১, বগুড়া-৭, জামালপুর-৪ এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

কুমিল্লায় বিএনপির ৫ প্রার্থীসহ ৩৬ জনের মনোনয়ন বাতিল

কুমিল্লার ১১টি আসনে বিএনপি মনোনীত ৫ প্রার্থীসহ ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসন থেকে। কুমিল্লার ১১টি আসনে ১শ ৩৪জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। বিএনপির ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও প্রতিটি আসনে বিএনপি মনোনীত একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতি আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। বাছাইয়ে আওয়ামীলীগের মনোনীত সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সঠিক বলে গণ্য হয়েছে। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীরের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই হয়।

বিএনপি মনোনীত ৫জন প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে মো: রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপীর অভিযোগে কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: আবদুল গফুর ভূইয়ার মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো: ইউনুসের সকল কাগজপত্র সঠিক থাকলেও তার কাগজপত্রের নোটারী যে আইনজীবী করেছেন সে আইনজীবী নোটারী করার রেজিষ্ট্রেশন মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নবায়ন না করায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়। কুমিল্লা-৬ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনেও আয়কর সনদ না দেয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কে এম মজিবুল হকের

মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যদিও কে এম মজিবুল হকের দাবি তিনি মনোনয়নপত্রের সাথে আয়কর সনদ জমা দিয়েছেন। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীর জানান, আমাদের কাছে যেসব কাগজ জমা দেয়া আছে সেসব কাগজই আছে। আমরা কোন কাগজে হাত দেই নি। আর তিনি তো আপিল করতে পারবেন।

কুমিল্লা- ৩ মুরাদনগর আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কাজী কেএম মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জাহাঙ্গীর আলম সরকার, তার পুত্র আহসানুল আলম সরকার কিশোর, কাজী জুনউন বশরী, আকবর আমীন বাবুল, জাকপা’র আনিসুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, দেলোয়ার হোসেন, এনপিপি’র নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সৈয়দ মোস্তাক আহম্মেদ,