বিমানবন্দরের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কর্ণফুলী নদীতে চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিমানবন্দরের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কর্ণফুলী নদীতে চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস



মাহিন উদ্দিন, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

চট্টগ্রাম বিমানবাহি যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তি কমাতে এবার কর্ণফুলী নদীতে আগামী সপ্তাহেই চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস।  প্রাথমিকভাবে দুইটি ওয়াটার বাস চালু করা হলেও আগামী মাসে আরো দুইটি বাস এতে যোগ হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ফ্লাইটের সাথে সমন্বয় রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অব্দি এ সার্ভিস চালু থাকবে। 

প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দরের মাত্র ১০ শতাংশ যাত্রীকে টার্গেট করে জনপ্রতি ৪০০ টাকা ভাড়ায় ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এসএস ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বাস পরিচালনা করবে। বন্দরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে ইতোমধ্যে সদরঘাটে টার্মিনাল এবং পতেঙ্গা এলাকায় পল্টুনসহ টার্মিনাল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে  সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিট সময় লাগবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী বিশ্বের নানা দেশে এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন লোকজন  পতেঙ্গা এলাকার শিল্প কারখানার কয়েক হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পতেঙ্গা এলাকায় যাতায়াত করেন। এই বিপুল মানুষ প্রতিদিনই গন্তব্যে যাতায়াত করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হন। বন্দরকেন্দ্রিক যানজটও এক্ষেত্রে বড় সংকট তেরি করে। এতে বহু মানুষেরই ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে।

এই ধরনের ভোগান্তির লাঘবে বন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের জন্য ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেয় বলে সাংবাদিকদের  জানিয়েছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ ।


ওয়াটার বাসের ২২ মিনিটের মতো সময় লাগবে। পতেঙ্গা থেকে বাসে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে আরো ছয় সাত মিনিট লাগবে। সব মিলিয়ে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ত্রিশ মিনিট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হবে। টার্মিনাল থেকে ওয়াটারবাস কিংবা শাটল বাস সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ ড্রাইডককে কাজটি দিয়েছিল। ড্রাইডকের পক্ষেই এসএস ট্রেডিং ওয়াটার বাস পরিচালনা করবে। এসএস ট্রেডিং ও টিএসডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবাব হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, জাপানের দুইটি ৪০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন দিয়ে ওয়াটার বাস তৈরি করা হয়েছে। হংকং থেকে এই বাসের ডিজাইন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত উক্ত ভাড়ার মধ্যে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছা আবার ফিরতি পথে বিমানবন্দর থেকে লাগেজসহ সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছার সুবিধা থাকবে। সদরঘাট কিংবা বিমাববন্দর থেকে যাত্রীদের লাগেজ বহন থেকে শুরু করে সব কাজই এসএস ট্রেডিং এর লোকজন করবে। তিনি বলেন, কারো যেন ফ্লাইটের সমস্যা না হয় সেদিকে সজাগ থেকে সিডিউল তৈরি করা হয়েছে। যতক্ষণ বিমান চলাচল থাকবে ততক্ষণই ওয়াটার বাস চলাচল করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

চট্টগ্রাম এর অন্যান্য খবরসমূহ