কুমিল্লায় ২০ দলীয় জোটের জনসভা মঞ্চে পৌঁছেছেন খালেদা : জনসমুদ্রে পরিণত জনসভা

কুমিল্লায় ২০ দলীয় জোটের জনসভায় পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তিনি কুমিল্লা সার্কিট হাউজ থেকে শহরের টাউন হল মাঠে জনসভাস্থলে যান।

 

এর আগে তিনি দুপুর ২টার দিকে তিনি কুমিল্লা সার্কিট হাউজে তার গাড়িবহর নিয়ে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। সকাল ১০ টা ২২ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে তার গাড়িবহর কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাজধানীর পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, কুমল্লিার দাউদকান্দি হয়ে দুপুরে কুমিল্লা শহরে পৌঁছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কুমিল্লার জনসভা দৃশ্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

 

ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা বাজার আগেই কুমিল্লা টাউন হল মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা আগেই মাঠ ভরে গেছে।

 

 

মূল জনসভা শুরু হওয়ার কথা ২টায়। কিন্তু তার আগেই বারোটার দিকে পুরো টাউন হল মাঠ ভরে গেছে বিএনপির নেতাকর্মীতে। এখনো মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দিতে আসছেন। মাঠে জায়গা না থাকার কারণে নেতাকর্মীরা আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নিচ্ছে। আশপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দিবে বলে জানা গেছে।

 

 

কিছুক্ষণ পর এ মাঠেই বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 

বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিরোধ, গুম, খুন, গুপ্ত হত্যা বন্ধ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে গণসংযোগের অংশ হিসেবে এই জনসভা হবে। ওই সভায় খালেদা জিয়া আন্দোলনের জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক।

 

বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রেকর্ড করা বক্তব্য জনসভায় শোনানো হয়।

 

সমাবেশ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়েছেন।

 

কুমিল্লা টাউন হল মাঠ জনসভার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় বিএনপির উদ্যোগে নগরের বিভিন্ন স্থানে এলইডি টেলিভিশন লাগানো হয়। নগরের ঝাউতলা, ঈশ্বরপাঠশালা, মনোহরপুর সোনালী ব্যাংক এলাকা, নজরুল এভিনিউ, রাজগঞ্জ ও ঈদগাহ মোড় এলাকায় ওই টেলিভিশন স্থাপন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও জনসভায় আসা ব্যক্তিরা খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেখতে ও শুনতে পাবেন।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উক্ত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। আর এরই মধ্যে তিনি কুমিল্লায় পৌঁছেছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ২০ দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে অভিনন্দন জানান।

 

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় অংশ নিতে কুমিল্লা পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে দেশব্যাপী ধারাবাহিক সফরের অংশ হিসেবে আজ কুমিল্লা সফর করছেন বেগম জিয়া।

এদিকে বেলা দেড়টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জোট নেতারা।

 

কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত আছেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতের ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের মাওলান মুহাম্মদ ইসহাক, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফজলে রাব্বি চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

 

 

এছাড়া কুমিল্লা জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, উত্তরের সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. আকতারুজ্জামান সরকারসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের কুমিল্লা যাওয়ার পথে তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দু’পাশে নেমে এসেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।

 

 

কুমিল্লার গজারিয়া, মাধাইয়া, চান্দিনা, ক্যান্টনমেন্ট, নিমসার এলাকায় তোরণ ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। এসব তোরণ ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারমন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। সদর দক্ষিণের বাগমারা সহ বিভিন্ন এলাকায় পথে পথে বিএনপি ও জামায়াত কর্ীদের বাধা দেয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে হামলায় বিএনপি ও জামায়াতের অনেকে আহত হন। পথে পথে বাধা ডিঙ্গিয়ে নেতা-কর্ীরা জনসভা স্থলে। বলা চলে কুমিল্লায় দেখা দিয়েছে মানুষের জনসমুদ্র। যা অতীতের রেকর্ ভঙ্গ করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।