কুমিল্লায় ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মনির হোসেন এবং তার সহযোগী দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়ার ঘটনায় জেলার দাউদকান্দি থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ সহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আনুমানিক পৌনে ১২ টায় নিহত মনির হোসেনের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিবালোকে এ হত্যাকান্ড ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল দাউদকান্দি থানা এলাকায় হওয়ায় এ থানাতেই মামলা দায়ের করেছে তাঁর স্ত্রী। মামলায় ১৩ জনের নাম সহ ২০ জনকে আসামি করা হেয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, কুমিল্লার আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে মাইক্রোবাস যোগে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে মুখোশ পরিহিত ১০-১২ জন সন্ত্রাসী সাত-আট মিনিটের মধ্যে নারকিয় তান্ডব চলিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন ও তার সহযোগীদের গুলি ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে চলে যায়। পরে আহতদেরকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মনির হোসেন ও তার সহযোগী মহিউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় তাদেরকে পুলিশ পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। মনির গত ২৮ মে জিয়ারকান্দি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নিহত মনির হোসেন চেয়ারম্যানের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বলেন, বাড়ী থেকে কুমিল্লার আদালতে যাওয়া উদ্দেশ্যে বের হয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারলাম তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

 
কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি এ কে এম মনজুর আলম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় ২২টি মামলা ও চারটি জিডি রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি, অস্ত্র আইনে চারটি এবং দ্রুত বিচার আইনে চারটি মামলা রয়েছে। বাকি মামলাগুলো হয়েছে পুলিশের কাজে বাধা, চাঁদাবাজি ও মারামারির অভিযোগে।