৩৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুই ছাত্রলীগ নেতা ।। আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি

কুমিল্লার দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই ছাত্রলীগ নেতা। সোমবার আওলাদ হোসেন ও গত ২১ ফেব্রুয়ারি নাসির উদ্দিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে এ ঘটনায় আবুল হাসান মিঠু, দেওয়ান নাসির উদ্দিন ওরফে সোহাগ, তারিকুল ইসলাম ওরফে টগর, আওলাদ হোসেন, মাকসুদ, রবিন, শফিকুল ও মাহবুব সুমন জড়িত ছিল বলে উঠে আসে।

তারা সবাই রাজধানীর সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার ও বংশাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। এরা সবাই ঢাকা দক্ষিনের ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। এর মধ্যে আলাউদ্দিন নামে একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছেন যার বাড়ি কুমিল্লায়।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র দত্ত ও তার বন্ধু বিধু মিত্র পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে স্বর্ণ বিক্রি করতে আসেন। স্বর্ণ বিক্রি শেষে রাজধানী মার্কেটে যাওয়ার জন্য তারা রিকশা নেন।

দু’জন দুপুর ১২টার দিকে ইসলামপুর হয়ে সূত্রাপুরের কুঞ্জ বাবু লেনে পৌঁছালে হঠাৎ অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন ব্যক্তি রিকশার গতিরোধ করে। পরে তাদের রিকশা থেকে নামিয়ে পাশের কাজী আবদুর রউফ রোডের ভাঙা বাড়ির সরু গলির ভেতরে নেয়া হয়।

ডাকাতরা তখন আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের বলেন, বাঁচতে চাইলে যা কিছু টাকা আছে সব দিয়ে দে, না দিলে জানে শেষ করে ফেলব। বুঝে ওঠার আগেই বিধান চন্দ্র দত্তের পেটের সঙ্গে বাঁধা কালো বেল্টের ভেতর থাকা ১২ লাখ ৫০ হাজার, পায়ের অ্যাংলেটের ভেতরে থাকা ৫ লাখ টাকা নেয় ডাকাতেরা।

আর তার বন্ধু বিধু মিত্রের পেটের সঙ্গে বাধা বেল্টের ১৪ লাখ ও পায়ের অ্যাংলেটে থাকা ৬ লাখ টাকা লুট করে নেয় ডাকাতরা। দু’জনের কাছে থাকা সর্বমোট ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ওই দুর্বৃত্তরা। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের মুঠোফোনও।

 

এ ঘটনার পর সোনা ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় ডাকাতি মামলা করেন।

রিমান্ড প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়। সেই ফুটেজ ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার দু’দিন পর আসামী নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে বংশাল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসান মিঠুসহ অন্যদের নাম।

এর একদিন পর দিন আবুল হাসান মিঠু ও রবিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আদালত আবুল হাসান ও রবিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে আছেন।

আদালত সূত্র জানায়, দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লুট হওয়া সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার মধ্যে নাসির উদ্দিন সোহাগের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বংশাল থানা ছাত্রলীগের নেতা আবুল হাসানের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা, আওলাদ হোসেনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, মাকসুদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং তারিকুল ইসলাম টগরের কাছ থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ যা মামলার জব্দ তালিকার আলামত হিসেবে গণ্য হবে।