ভয়ংঙ্কর রূপ নিয়েছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অতি জরুরী সংস্কার প্রয়োজন

ভয়ংস্কর রূপ নিয়েছে কুমিল্লা-লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। চলমান বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। লাকসাম অংশের প্রায় ১০কিঃমিঃ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার মৌসুম হওয়ায় গর্তগুলোতে পানি জমে বেহাল দশায় পরিনত হয়। ফলে পথচারীসহ পরিবহন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়ে ভাঙছে কোমর। এ সড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। মাঝে মাঝে ইট, ইটের খোয়া দিয়ে কিছুটা সংস্কার করা হলেও তার স্থায়ীত্ব হয় সর্বচ্চো এক সপ্তাহ। তবে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অতি জরুরী সড়কটি সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, চলমান বর্ষার শুরু থেকেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে কুমিল্লা-লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১০ কিঃমিঃ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য ও মরন-ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লাকসাম জংশন, মিশ্রি, চাঁদপুর রেলগেইট, বাইপাস, ফতেপুর, চন্দনা বাজার, খিলা বাজার সড়কের মাঝখানেই সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টি হলে জমছে পানি। সূর্য উঠলে উড়ছে ধুলোবালি। জনগণের ত্রাহি অবস্থা। এতে প্রতিদিনই ঘটছে প্রায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন যাবৎ পূর্নাঙ্গভাবে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও খানাখন্দের সৃষ্টি হয় বারবার। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েকদিন পরপর নামমাত্র এসব গর্তে সুড়কি, ইট, বালু দিয়ে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করলেও এর স্থায়িত্ব হয় অল্প কয়েকদিন। ভাংঙ্গাচুরায় তছনছ হওয়া এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব গর্তে পানি জমে ময়লা ও কাদাজলে একাকার অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো দিয়ে সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, চলাচলের সময় চাকা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে আর বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস চলাচলে ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা। এই রাস্তায় যাতায়াত কারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ির গতি কমে সৃষ্ট যানজটে সময় অনেক বেশি লাগছে। এ সড়কে চলাচলকারী সাধারন মানুষের প্রশ্ন এ ভোগান্তি শেষ কোথায় ও কখন।

 

এ সড়কে সওজ কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে কিছু পাথর আর খোয়া দিয়ে দায়সারাভাবে মেরামত করে আসছে। এ সড়কটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন সড়ক হলেও সওজের কাছে যেন কিছুই না। এমন দায়সারা কাজ করে চলেছে এ দপ্তরটি। এতে করে বিশেষ মহল মনে করেন টুকটাক মেরামতে রাষ্ট্রের যেমন অর্থ অপচয় হচ্ছে তেমনি সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনভাবও তৈরী হতে পারে সাধারণ জনগণের।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথের উপ-সহকারী বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে খানা-খন্দ তৈরি হয়। ইতিমধ্যে কুমিল্লা টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিঃমিঃ এ সড়কটি ফোর লেনে উন্নত করার জন্য প্লানিং প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। বর্ষার মৌসুম শেষ হলেই আমরা এ সড়কটির মেরামত কাজ শুরু করবো। তবে বর্তমানে যান চলাচল উপযোগী করতে জরুরী যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা চলমান রয়েছে।