কুমিল্লায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ!

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ৩ যুবক মিলে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে পালাক্রমে গত ২৯ জুলাই রাত ৮টা থেকে সারারাত ধর্ষণ করেছে পার্শ্ববতী মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া গ্রামের কিশোরী রুনা আক্তার(১৬) কে। ঘটনাটি ঘটেছে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের খাদঘর গ্রামে । এমনি অভিযোগ রুনার পরিবারের।

 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ভানী ইউনিয়নের খাদঘর গ্রামের ৩ জন যুবক পার্শ্ববতী মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া গ্রামের কিশোরী রুনা আক্তার (১৬) কে গণ ধর্ষণ করে। ভিকটিমের মা নুরজাহান (৪৫) ভিকটিমকে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানায় উপস্থিত হয়ে গণধর্ষনের একটি অভিযোগ দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর গ্রামের ৩ জন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা ।

 

অভিযুক্তরা হলেন- ১। মোঃ আবদুল বাতেন (২৫), পিতা-মৃত শাহ আলম, ২। মোঃ মনির (২৮), পিতা-মোঃ দুধ মিয়া ও ৩। মোঃ আবুল কাশেম (৩৬), পিতা-মৃত আবদুল ওহাবের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করলে ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ সাপেক্ষে মামলা রুজু করে ।

 

ওই অভিযোগের ভিত্তিত্বে ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর(তদন্ত) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই প্রেমধন মজুমদার, এসআই খালেদ মোশারফ, এসআই মোশারফ হোসেন সহ টিম দেবিদ্বার ভানী ইউনিয়নের খাদঘর গ্রামে দ্রুতগতিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত উল্লেখিত ৩ আসামীর সকলকেই গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ৩ আসামী অকপটে পালাক্রমে ধর্ষনের দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

 

মামলা সুত্রে আরো জানাযায়, ভিকটিম কিশোরী রুনা আক্তার(১৬) তার মায়ের উপর রাগ করে মুরাদনগর থানাধীন বাবুটিপাড়া গ্রামস্থ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্রে পূর্ব পরিচিত আসামী দেবিদ্বার থানাধীন খাদঘর গ্রামের বখাটে যুবক বাতেন(২৫) ভিকটিম’কে ফোন করলে তার রাগ করে বাড়ী ছাড়ার তথ্য জানতে পেরে দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগানোর ফন্দি করে।

 

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিম’কে খাদঘর গ্রামে ডেকে নেয়। রাত আনুমানিক ০৮.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম খাদঘর ব্রীজের কাছে পৌঁছলে তাকে কিছুটা দুরে জাহাঙ্গীর চৌকিদারের বাড়ীর পার্শ্বে একটি নির্জন ভরাট জমিতে নিয়ে আনুমানিক ০৮.৩০ ঘটিকার দিকে ধর্ষন করে বাতেন। রাত আনুমানিক ০৯.৩০ ঘটিকার দিকে বাতেন খাবার নিয়ে আসার কথা বলে মেয়েটির কাছ থেকে সটকে পড়ে এবং তার অপর ২ সহযোগী মনির(২৮) ও কাশেম(৩৬) কে ডেকে এনে মেয়েটির অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়।

 

আসামী মনির ও কাশেম এসে রাত আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকার দিকে মেয়েটিকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আনুমানিক ১০০/১৫০ গজ দুরে সুরাইয়ার টিনের বসত ঘরে রাত্রীযাপনের জন্য নিয়ে রাখে। সুরাইয়ার স্বামী চট্রগ্রামে সিএনজি চালায়। সুরাইয়া ঘুমিয়ে পড়লে প্রথমে মনির এবং পরে কাশেম পালাক্রমে ভিকটিম কিশোরীটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। মনির কর্তৃক ভিকটিমকে ধর্ষনকালে আসামী বাতেন ও কাশেম ঘরের বাইরে অপেক্ষায় থাকে।

 

পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মনির ও বাতেন এবং রাত আনুমানিক পৌণে ১টার দিকে কাশেম ভিকটিমকে ঘটনাস্থল ঘরে রেখে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে সুরাইয়াকে ভিকটিম আসামীগণ কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হওয়ার তথ্য জানায়।

 

পরে সুরাইয়ার চাপে আসামী কাশেম ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিলে ভিকটিম তার ভাবী লাইলীকে মোবাইলে নিজের অবস্থানের সংবাদ দেয়। লাইলী লোকজনের সহায়তায় ভিকটমকে খাদঘর গ্রামস্থ ঘটনাস্থল ঘর থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেলে ভিকটিম তার মায়ের নিকট ঘটনার বিস্তারিত জানায়