নওমির পর এবার কুমিল্লা থেকে তার বাবা আটক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘মানুষ নামানোর’ জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ব্যারিস্টার মিনহানুর রহমান নওমিকে। রোববার ভোরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দেওড়া গ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

 

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

এছাড়া নওমির বাবা সিদ্দিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে নওমির বাবাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন।

 

ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নওমির বাবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল ও সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও অতীতে তিনি জামায়াতের নেতা ছিলেন।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নওমির বাবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। রবিবার দুপুরে তাকে উনাইসার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ‘মানুষ নামানোর’ একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শনিবার। সেই ক্লিপে কুমিল্লায় থাকা নওমি নামের একজনের সঙ্গে আরেকজনকে কথা বলতে শোনা যায়।

 

অভিযোগ ওঠে, নওমি ছাড়া ফোনের অপরপ্রান্তের ব্যক্তিটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই অডিওতে এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মানুষজন নামায় দাও, হাইওয়েতে-টাইওয়েতে অসুবিধা নাই। ঢাকায় মানুষজন নামায় দাও ভালো করে। বুজছো? তোমাদের তো আর চেনে না।’ আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘জ্বি আংকেল। এমনে সবাই সংগঠিত হচ্ছে।’

 

শনিবার ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি মামলাও হয়েছে।