কুমিল্লা বরুড়ায় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করল ৬২ বছরের বৃদ্ধ!

কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার দেওড়া গ্রামে ৭ বছরের শিশু অনামিকা (ছদ্মনাম) ধর্ষিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় একই গ্রামের প্রতিবেশী ৬২ বছরের বৃদ্ধ মিজানুর রহমান শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

মেয়ের মা ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, ৩১ জুলাই ২০১৮ইং রোজ মঙ্গলবার শিশুটি খেলা করার জন্য তার খেলার সাথী ধর্ষক মিজানুর রহমানের নাতনীকে ডাকতে তার ঘরে গেলে সে মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটির খেলার সাথী ও অপর একজন শিশু ঘটনাটি দেখে ফেলে। সেদিন ছিল বৃষ্টির দিন। অঝোর ধারে বৃষ্টি পড়ছিল। তাই আশেপাশের লোকজন মেয়েটির চিৎকার শুনতে পায়নি। পরে শিশুটি কান্না ঝরা কন্ঠে সে তার নানা সাহেব আলীকে ও নানীকে ঘটনাটি খুলে বলে।

অসহায় নানা নানিকে প্রভাবশালী মহল চাপ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হুমকি দেয়। এবং পরে শালিসের নামে করে প্রহসন। মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষককে ছেড়ে দেয় স্থানীয় সর্দারগণ। সালিশের ১০-১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জরিমানার ১০ হাজার টাকা পায়নি ভিকটিমের পরিবার। একজন মেয়ের ইজ্জতের দাম মাত্র ১০ হাজার টাকা? তাও বাকিতে!

মেয়েটির মা কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাই আমি একজন জনম দু:খী মানুষ। কারণ মেয়েটিকে পেটে রেখেই তার বাবা প্রবাসে পাড়ি জমায়। এখন পর্যন্ত আমার ও তার সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয় না। আমি কুমিল্লা ইপিজেড চাকুরি করি। সে দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার মেয়েটির জীবন নষ্ট করে দিল ঐ পাষন্ড মিজান।

লোক চক্ষুর অন্তরালে একটি শালিস হয়েছে। ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ধর্ষককে। ঐ টাকা এখনও পান নি জানিয়ে বলেন টাকা দিয়ে কি হবে? আমার মেয়ের সম্মানের দাম কি মাত্র ১০ হাজার টাকা? আমি এর বিচার চাই।

পরক্ষণেই মামুন নামে স্থানীয় এক শালিসদার এসে ক্যামেরায় কি সব সাক্ষাৎকার দিচ্ছিস বলেই অনামিকার মাকে উঠিয়ে দেয়। বিচার শেষ এখন আপনারা ( সাংবাদিকদের) কেন এসেছেন? বলেই ভিকটিমের নানী ও নাান সাহেব আলীকে গালাগালি শুরু করে দিয়েছে। আপনি এমন করছেন কেন জিঞ্জাসা করাতে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন যান যা পারেন করেন? ভিকটিম বিচার চায় না। বিচার শেষ।

স্থানীয় লোকজনের ভয়ে ভিকটিম পরিবার মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। শালিসে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভূইয়া বাড়ির রিপন ভূইয়া, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা মামুনসহ আরও কয়েকজন।

এই বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, কেউ অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। বিষয়টি একটি ন্যাক্কার জনক ঘটনা।

উল্লেখ্য শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। বয়স ৭ বছর। বরুড়া উপজেলার দেওড়া নানার বাড়িতে থাকে। বাবাহীন অবুঝ শিশুটির অশ্রুসজল চাহনী যেন বলে আমি বিচার চাই ঐ নরপশুর।