রেলমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করায় কুমিল্লা থেকে ৩ যুবক আটক

একটি স্বল্পমেয়াদী কোর্সে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছিল। সেই আবেদেন ব্যাপক সাড়াও মেলে। ১৭ ব্যক্তির আবেদনে দেখা যায় স্বাস্থ্য, রেল, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রীর স্বাক্ষর রয়েছে।

 

এ বিষয়ে তদন্তে নামে সিআইডির একটি টিম। তদন্তে দেখা যায় ওই ১৭টি আবেদনে যে স্বাক্ষর করা হয়েছে সেগুলো জাল। তারা যেসব মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবের স্বাক্ষর ব্যবহার করেছেন তা তাদের নয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

 

তিনি জানান, চক্রটি ১৭ জন স্টাফ নার্সের আবেদনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নুর তাপস, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ কয়েক জন সচিবের সুপারিশসহ জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেছে। এ ব্যাপারে মামলা হলে তদন্ত করে সিআইডি।

 

চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবৈধ কাজ করে আসছিল কিন্তু তারা ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এই চক্রের সদস্যরা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবের স্বাক্ষর জাল করতো। তারা তাদের নাম করে ভুয়া ফোন কল করতো। পাশাপাশাশি তারা এসএমএসের মাধ্যমে তদবিরও করেছে বলে জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় তিনজন সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীকে কুমিল্লা ও চাঁদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দির তালতলী গ্রামের মৃত হাসেম মিয়ার ছেলে অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, চাঁদুপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে সিনিয়র স্টাফ নার্স আবু ইউসুফ, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার মৃত আব্দুল রশিদ তালুকদারেরর ছেলে সিনিয়র স্টাফ নার্স রুহুল বাসার তালুকদার।

 

তিনি জানান, মূলত চক্রটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবা অধিদপ্তরের আওতায় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত নার্সিং এডুকেশন এন্ড সার্ভিসেস প্রোগ্রামের অপারেশনাল প্লান-এর সংস্থার অধীনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নার্সিং কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ছিল।

 

এজন্য বিভিন্ন হাসপাতাল/স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সিং কর্মকর্তাদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ২০১৭ সালে শেরে বাংলা থানায় একটি মামলা হয়। সেই মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্গানাইজড ক্রাইম (সিরিয়াস ক্রাইম এন্ড হোমিসাইডাল স্কোয়াড) এর বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াড) রাজিব ফারহানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।