কুমিল্লায় শোক দিবসে আ’লীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কুমিল্লায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইকবাল (১৮) নামের এক কর্মী আহত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এমপি ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার সমর্থক দুই গ্রুপের মধ্যে শোক র‍্যালি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে উভয় গ্রুপের কমী-সমর্থরা আলাদাভাবে জড়ো হতে থাকে।

পরে সকাল সাড়ে ৯টায় মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। এতে মুরাদনগর থানা পুলিশ বাধা দিলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে র‍্যালি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অপর দিকে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। পরে উপজেলার কবি নজরুল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা মঞ্চে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আসন না থাকাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে নেতাকর্মীরা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এতে প্রায় ৩০ মিনিট অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে। এ সময় মিলনায়তনের বাইরে ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন গ্রুপ ও জাহাঙ্গীর আলম সরকার গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ছুরিকাঘাতে ইকবাল (১৮) নামের একজন আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। এখানে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। এ আসনে যেই নৌকা প্রতীক পাবেন আমরা তার হয়েই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবো।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক র‌্যালি তে পুলিশি বাধায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে ও ইউছুফ সাহেবকে যারা একসময় মুরাদনগরে আসতে দেয় নাই, তারাই আজ তার হয়ে কাজ করছে।’

মুরাদনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদুল আলম জানান, ‘উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোক র ১০টায় বের হওয়ার কথা। আলাদাভাবে র‌্যালি করার বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের র্যালিটিকে ১০টার পর করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।’