কুমিল্লায় প্রধান জামাত সকাল ৮টায় ; ৫৭৬ স্থানে ঈদের জামাত

আগামী কাল বুধবার পবিত্র ঈদ-উল আযহা। এদিন ত্যাগের আনন্দে মেতে উঠবে মুসলিম সম্প্রদায়। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ছাড়াও নগরের মুন্সেফবাড়ি, পুলিশ লাইন জামে মসজিদ, সুজা বাদশা জামে মসজিদ, কাপ্তান বাজার জামে মসজিদ, জানু মিয়া জামে মসজিদ, দারোগাবাড়ি জামে মসজিদসহ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, বরুড়া, চান্দিনা, দেবিদ্বার, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা, হোমনা, মুরাদনগর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়াসহ ১৬টি উপজেলায় ঈদগাহ মসজিদসহ ছোট বড় ৫৭৬টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহীম(আঃ)কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম(আঃ)তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে স্রষ্টা তাকে তা করতে বাধা দেন এবং পুত্রের পরিবর্তে পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন।

 

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্ঠি অর্জনের জন প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অণুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাক

 

দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে। ইসলাম মতে যার যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর ওপর ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশু কুরবানি করা ওয়াজীব। ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দুইদিন পশু কুরবানির জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশের মুসলিমরা সাধারণত গরু বা খাসী কুরবানি দিয়ে থাকেন। এক ব্যক্তি একটি গরু, মহিষ বা খাসি কুরবানি করতে পারেন।

 

তবে গরুর বা মহিষ এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্য ৭ ভাগে কুরবানি করা যায় অর্থাৎ ২, ৩, ৫ বা ৭ ব্যক্তি একটি গরু কুরবানিতে শরিক হতে পারেন। সাধারণত আমাদের দেশে কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে ১ ভাগ গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ১ ভাগ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এবং ১ ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়, তবে মাংস বিতরণের কোন সুস্পষ্ট হুকুম নেই, কারণ কুরবানির দ্বারা হুকুম পালন হয়ে যায়।

 

পৃথিবীর নানা প্রান্তে ক্ষুধা দারিদ্র ছড়িয়ে আছে। আছে যুদ্ধ বিগ্রহ।

ঈদের আনন্দে ভেসে যাক সকল দুঃখ। ঈদের খুশির মাধ্যমে ঘুচে যাক সকল ভেদাভেদ।