কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর প্রবাসী হত্যা মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম (৩৫) হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভুইয়া। পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ঈদের দিন বুধবার বিকেলে আবুল কালামকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছিল।

 

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সর্বমহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়াসহ তোলপাড় চলছে। মামলার অভিযোগ ও সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের গাইটুলী গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে আবুল কালাম জীবীকা নির্বাহের জন্য দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। প্রবাসের অবস্থা ভাল না থাকায় প্রায় এক বছর পূর্বে সে দেশে চলে আসে।

 

ইতিমধ্যে আবুল কালাম আবারো সৌদি আরবে যাওয়ার প্রস্তুুতি নিচ্ছিল। কিন্তুু ঘাতকরা তাকে আরে বিদেশে যেতে দেয়নি। বিদেশে থাকাবস্থায় আবুল কালামের সাথে একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশীদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে নগদ টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় প্রবাসী আবুল কালামের সাথে মামুনুর রশীদের দন্দ্ব চলে আসছিল।

 

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে কতেক লোকজন মামুনুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে টাকা দেম দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। পাওনা টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঈদুল আজহার দিন বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটায় প্রবাসী আবুল কালামকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নেয় মামুনুর রশীদ। পরে টাকা আত্বসাতের উদ্যেশ্যে প্রবাসী আবুল কালামকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয়।

 

সে মতে নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রামধনীমুড়া কবরস্থানের নিকট নিয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক দিয়ে প্রবাসী আবুল কালামকে মারধর করে গুরতর আহত করা হয়। পরে প্রকৃত হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য গুরতর আহত আবুল কালামকে পরিকল্পিত ভাবে একটি গাড়ীর নীচে ফেলে দেয়।

 

পরে মামুনুর রশীদ নিজে হাসপাতালে না গিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা দিয়ে আবুল কালামকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মানিক তাকে মৃত ঘোষণা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে মামুনুর রশীদ নিজেই ঘটনাস্থলে ওই রাস্তার পাশে মাটিতে পড়ে থাকার ভ্যান করে। তাকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রবাসী আবুল কালামকে সুরতহালপূর্বক লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার কুমেক হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের পর নিজ গ্রামে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এরই মধ্যে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মামুনুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনলে তার কথায় গড়মিল ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তুু ঘটনার তিনদিন পরই হত্যাকান্ডের অভিযুক্ত আসামী মামুনুর রশীদ এলাকায় ঘুরে বেড়ালে তোলপাড় শুরু হয়।

 

এ দিকে পুত্র হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে ছাত্তার মিয়া বাদী হয়ে মামুনুর রশীদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতে সোমবার একটি হত্যা মামলার অভিযোগ করে। আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভুইয়া অভিযোগটিকে মুরাদনগর থানাকে এফআইআর হিসেবে গন্য করে পিবিআই কুমিল্লাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

 

অপর দিকে নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৮) জানান, মামুন পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত ভাবে আমার স্বীকে হত্যা করেছে। আসামী মামুনকে বাড়িতে দেখে তিনি শঙ্কিত। তিনি বলেন, আমার আল-আমিন নামে তিন বছরের ও ইয়াছিন মিয়া নামে ২০ দিনের দু’টি ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন আমি কোথায় যাব, কি করব, কার কাছে গেছে স্বামী হত্যার বিচার পাব কিছুই মাথায় ধরছে না। আমি টাকা পয়সা চাই, আমি আমার স্বামী হত্যাকারীদের বিচার চাই।

 

প্রবাসী আবুল কালামের বৃদ্ধ মা তজুবা খাতুন পুত্রের শোকে কাতর হয়ে বার বার মুর্চা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের দেখে তিনি শুধু বুক চাপড়াচ্ছেন। তিনি তার ছেলের খুনীদের ফাঁসি দাবি করেন।