কুমিল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে , নিহত ২ (ভিডিও) - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

কুমিল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে , নিহত ২ (ভিডিও)



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার শিদলাই গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত অদুদ মেম্বারের ছেলে খোরশেদ আলম (৫৫) ও শিরু মিয়ার ছেলে শুকুর মিয়া ওরফে সানু (৫০)।

 

নিহত ২জনের মধ্যে খোরশেদ ঘটনাস্থলে এবং শুকুর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারা দুজন একই গ্রুপের বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

 

বাকিদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান বলেন, দু’জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে শিদলাই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে ওসি শাহজাহান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে এসেছেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়ার শিদলাই গ্রামে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দুটি গ্রুপ ‘বড় দল’ ও ‘ছোট দলে’ বিভক্ত রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রুপ দুটি প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত বছর এরকমই একটি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ‘বড় দলের’ লিডার মফিজুল ইসলাম। এরপর থেকেই ‘ছোট দলের’ লোকজন মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া ছিলো।

 

কিন্তু শনিবার ভোরে হঠাৎ করেই তারা জড়ো হয়ে বড় দলের সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালাতে শুরু করে। বড় দলও চালায় পাল্টা আক্রমণ। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

 

টেঁটা, বল্লম, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একই গ্রামের একই পাড়ার দুটি গ্রুপের এ সংঘর্ষ চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। এর এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ছোট দলের খোরশেদ আলম। তার দুই পায়ের উরু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত অসংখ্য টেঁটার আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে। এ ছাড়াও কেটে ফেলা হয় তার দুটি পায়ের রগও।

 

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছোট দলের শুকুর মিয়াকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার কিছুক্ষণ পর মারা যান তিনিও। শুকুর মিয়ার শরীরে কয়েকটি টেঁটার আঘাতের চিহ্ন ছাড়াও তার ডান পায়ের রগ কেটে ফেলা হয় বলে জানা গেছে।

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জহির, কাউসার, আবুল হোসেন, রুহুল আমিন ও রিপনকে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও গুরুতর আহত ২ জনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ