লাকসামে ক্যানসারে আক্রান্ত একই পরিবারের ৩সদস্যের বাঁচার আকুতি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসামে ক্যানসারে আক্রান্ত একই পরিবারের ৩সদস্যের বাঁচার আকুতি



মশিউর রহমান সেলিম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ড উত্তরকুল গ্রামের হতদরিদ্র সাজু মিয়া সহ একই পরিবারের ৩জন সদস্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত তাদের বাঁচার আকুতিকে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের সাজু মিয়া একজন দিনমুজুর। তার পরিবারের সদস্য রুবি আক্তার (১২) ৫ম শ্রেণী ও ছোট্ট শিশু রূপা আক্তার (১০) ওই এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত সাজু মিয়া সহ তার পরিবারের সদস্য রুবি আক্তার (১২) ও রূপা আক্তার মরণঘাতি ক্যানসারে আক্রান্ত। বিগত ৪বছর পূর্বে সাজু মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগমও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ওই পরিবারটির উপর সৃষ্টিকর্তার নিয়তির নির্মম পরিহাস থেকে রেহায় পায়নি সাজু মিয়া সহ তার ২কন্যা রুবি ও রূপা। বাঁচার আকুতিতে স্থানীয় বিত্তশালীদের ধারে ধারে ঘুরার পাশাপাশি পাশ^বর্তী বাড়ির গোলাফসহ কতিপয় যুবক গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য এনে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারে আক্রান্ত সাজু মিয়ার একমাত্র ছেলে সুমন (২০) রাজমিস্ত্রির কাজ করে। তার স্বল্প উপার্জন দিয়ে কোনোমতে চলে পরিবারের ভরণ-পোষণ। তবে অসুস্থ দুই বোন ও পিতার চিকিৎসা চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিনদিন অনিশ্চয়তার দিকেই ধাবিত হচ্ছে ওই পরিবারটি।

এছাড়া হতদরিদ্র সাজু মিয়ার অবলম্বন বলতে কেবলই ভিটেমাটি। স্থানীয়দের সহায়তায় তার দুই মেয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন হলেও তাদের স্থায়ী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন কয়েক লক্ষাধিক টাকা। যা জোগাড় করা সাজু মিয়ার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত রূপা ও তার অসুস্থ বোন রুবি সুস্থ্য জীবন ফিরে পেতে চায়। তারা আবার একসাথে স্কুলে যেতে চায়। মা হারা সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সাজু মিয়াও ফিরে পেতে চায় তার সুস্থ্য জীবন। অথচ নিয়তিও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। ওই পরিবারটির অসহায়ত্ব ও স্থানীয় বিত্তশালীদের একটু সহযোগীতা পরিবারটির জন্য বয়ে আনতে পারে সাফল্য।

সাজু মিয়ার প্রতিবেশী তরুণ সমাজসেবক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘সামাজিক ভাবে আমরা আমাদের সাধ্য মোতাবেক সাজু ভাইয়ের পরিবারের পাশে আছি। আমরা স্থানীয় তরুণরা মিলে কিছু আর্থিক সহায়তাও করেছি। তবে তাদের স্থায়ী চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সবার কাছে আমি আকুল আবেদন করছি, মানবতার সেবায় সাধ্য মোতাবেক এগিয়ে আসুন।’

প্রতিবেশী গোলাফ রহমান বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে রূপার মা মারা গেছেন। বাবা মৃতুশয্যায়। তার বোনের লক্ষণও সুবিধার নয়। চিকিৎসার অভাবে একটি পরিবার এভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে না। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিপূর্ণ চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সবাই সহযোগিতার হাত বাড়ালেই অসহায় এই পরিবারটি আলোর দেখা পাবে।’ দেশ-বিদেশের উদারমনা মানুষের আর্থিক সহায়তাই বদলে দিতে পারে অসহায় এই পরিবারটির দুর্দশার চিত্র। একটু সহানুভূতিতেই তারা ফিরে পেতে পারে সুস্থ্য, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন। নশ্বর পৃথিবীর বুকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারে আগামী দিনগুলো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ