দাউদকান্দিতে স্বামী-শ্বশুরের নির্যাতনে অতিষ্ঠ গৃহবধূ থানায় অভিযোগ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

দাউদকান্দিতে স্বামী-শ্বশুরের নির্যাতনে অতিষ্ঠ গৃহবধূ থানায় অভিযোগ



আবু ইউসুফ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

যৌতুক না দেয়ায় স্বামী আর শ্বশুরের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে এক বছর ধরে বাবার বাড়িতে থাকা গৃহবধূর উপর হামলা করার অভিযোগে স্বামী আর শ্বশুরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন গৃহবধূ মনি চৌধুরী। জানা যায় গত সোমবার সন্ধ্যায় মনি চৌধুরীর ১১ মাস বয়সের মেয়ে মেহেরুমা হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে গৌরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে স্বামী মেহেদী তার উপর হামলা করে মারধর করে। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে মেহেদীর বাবা মনিদের বাড়িতে এসে তাকে মারধরসহ হুমকি দিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় মনি গতকাল বুধবার দাউদকান্দি থানায় মেহেদী ও তার বাবা মহিউদ্দীনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জানা যায় পেন্নাই মেছোবাড়ি গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে ছাত্রনেতা মো. মেহেদী হাসানের সাথে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার আড়াইউড়া গ্রামের মমিন চৌধুরীর মেয়ে কিশোরী মনি চৌধুরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এ সুবাদে মেহেদী তাকে কাবিন ছাড়া বিয়ে করে বাড়িতে না নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। মনি জানান সেখানে কয়েকমাস থাকার পর তার গর্ভে সন্তান আসলে মেহেদী তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে নেয়ার পর মেহেদী, তার মা-বাবা মনির নিকট দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে শ্বশুর শাশুড়িসহ তাকে শারীরিক ও মানুসিক নির্যাতন শুরু করে। এরপর মেয়ে সন্তান জš§ নেয়ার ৪ দিন পর তাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। প্রভাবশালী স্বামীর নির্যাতনের শিকার মনি গত একবছর ধরে তার ছোট শিশুটিকে নিয়ে একই এলাকার রায়পুর নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন। কিশোরী গৃহবধূ মনি জানান, আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানার বাড়ি দাউদকান্দির রায়পুর গ্রামে বসবাস করি। পার্শ্ববর্তী পেন্নাই গ্রামের মেহেদীর সাথে আমার এক বড় ভাইয়ের পরিচয় ছিল সেসূত্রে প্রায় আমাদের বাড়িতে আসতো। আসা যাওয়ার মাঝে আমাদের মাঝে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে মেহেদী আমাকে নানা প্রলোভন দিয়ে ভোগ করতে চাইতো কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় সে প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং আমাকে কাবিনবিহীন বিয়ে করে। বিয়ের পর তার বাড়িতে না নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করি, এরপর আমার গর্ভে সন্তান আসার ৫ মাস পর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়ে সন্তান হওয়ার পর শ্বশুর শাশুড়ি দেবর ননদ মিলে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক না দেয়ায় মেহেদী বিয়ে অস্বীকার করে বসে এবং আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন আমি নিরুপায় হয়ে গত বছর দাউদকান্দি থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন ধারায় মামলা দায়ের করি মামলা নং ৪৩। মামলা করার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। এরপর ৬ লাখ টাকার কাবিন করার শর্তে আমি তাকে জামিনে নিয়ে আসি। জামিনে বের হয়ে আসার পর মেহেদী এবং তার মা বাবাসহ পুরো পরিবার আমার নিকট আবারো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে যৌতুক না দিলে তারা আমাকে পুত্রবধূ হিসাবে গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে মেহেদী ও তার পরিবার নানা হুমকি দিতে থাকে এবং আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ নানাস্থানে কুৎসা রটনা করতে থাকে। গত ৫ জুলাই সকাল ৯টার সময় আমার স্বামী মেহেদী হাসানসহ তার পরিবারের লোকজন আমার বাবার বাড়িতে আবার ২ লাখ টাকা দাবি করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমার স্বামী আমাকে পুনরায় মারধর করে, এসময় চিৎকার করলে তারা দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আমি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নারী ও শিশু ও সহায়তা সেলে অভিযোগ দায়ের করি। সেখানে গত ১৩ আগস্ট আমাদের ডাকা হলেও মেহেদী এবং তার পরিবারের কেউ উপস্থিত হয়নি। এখন আমাকে মেহেদী হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মনি জানান এরপর থেকে আমি অসহায়ভাবে নিরাপত্তহীনতায় জীবনযাপন করছি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
দাউদকান্দি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ