লাকসামে চেক জালিয়াতি মামলা থেকে বাঁচতে ৪ বছর পর স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসামে চেক জালিয়াতি মামলা থেকে বাঁচতে ৪ বছর পর স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা



স্টাফ রিপোর্টার, লাকসাম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার লাকসামে চেক জালিয়াতি মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে দীর্ঘ ৪ বছর পর স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায়  শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী মহিউদ্দীন সোহাগ, মহি উদ্দীন স্বপন ও জসিম উদ্দীন বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিকট বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

ভুক্তভোগীরা জানায়, গত ১৩/১০/২০১১ তারিখে লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও পুরাতন বাজার এলাকার মৃত আবদুস সামাদের ছেলে ব্যবসায়ি আমজাদ হোসেন স্থানীয় প্রত্যাশা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ থেকে ঋণ উত্তোলন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যাবতীয় কাগপত্রও প্রদান করে। পরে আরো কয়েক দফায় ঋণ নেয়। গত ১৫/০৭/২০১৪ তারিখে ঋণের ৪ লাখ ৪ হাজার ৬শ’ টাকা পরিশোধ শেষে সকল কাগজ-পত্র ফেরত নিয়ে যায়। ঋণের টাকা পরিশোধের কয়েক মাস পর কর্তৃপক্ষ ওই মাল্টিপারপাসের সকল কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়ায় জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে যোগদান করি।

 

ভুক্তভোগী গাজীমুড়া গ্রামের মাওলানা আবদুর রহমানের ছেলে মহিউদ্দীন সোহাগ, একই গ্রামের মৃত হাছান আহাম্মেদের ছেলে মহি উদ্দীন স্বপন জানান, প্রত্যাশা মাল্টিপারপাসের ঋণ গ্রহিতা আমজাদ হোসেন বিগত ২০১৫ সালে পৌরসভার গাজীমুড়া গ্রামের নাজির আলী’র ছেলে সাইফুল ইসলাম খোকনের কাছ থেকে ব্যবসায়িক কাজে ১২ লাখ টাকা হাওলাত নেন আমাদের উপস্থিতিতে। ওই টাকার বিপরীতে একটি চেকও প্রদান করে। নির্দিষ্ট তারিখে হাওলাতকৃত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় খোকন বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ কুমিল্লা ৪র্থ দায়রা জজ আদালতে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১৯৬১)। ওই মামলায় আমাদের স্বাক্ষী করা হয়।

 

তাই আমাদের উপর রাগের বশবর্তী হয়ে আমরা দু’জনসহ প্রত্যাশা মাল্টিপারপাসের কর্মচারী মনপাল গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করেন আমজাদ হোসেন। শুধু মামলা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি; পত্রিকায় আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করেছেন।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘দীর্ঘ ৪ বছর ধরে ১২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলা চলার পরও আসামি আদালতে ওই চেকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা আপত্তি না করে স্বাক্ষী হওয়ায় আমাদেরকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলাটি দায়ের করেন।’ এ সময় তারা ওই মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে অহেতুক মামলা করিনি। ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ