ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পঙ্গুত্বের পথে কুমিল্লার শিশু রেশমা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পঙ্গুত্বের পথে কুমিল্লার শিশু রেশমা



বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে পা হারাতে বসেছেন রেশমা আক্তার নামের ৯ বছরের এক শিশু। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগের ২৩ নং শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই শিশু। এই ভুল চিকিৎসার ফলে প্রায় সাড়ে ৫ মাস ধরে হাসপাতালের শয্যায় পড়ে কাতরাতে হচ্ছে তাকে। শিশু রেশমা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে।

 

শনিবার রেশমার মা নার্গিস আক্তার জানান, গত ১৫ এপ্রিল রাস্তা পারাপারের সময় উপজেলার টুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিক্সার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পায় রেশমা। সেসময় তাকে উদ্ধার করে লাকসাম ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন অটোরিক্সাটির চালক। সেখানে রেশমার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালটির মালিক ও নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়া। প্রায় ১ মাস চিকিৎসার পর রেশমার গোড়ালীর ক্ষত শুকাতে দেরী হলে তিনি পায়ের উরু থেকে চামড়া তুলে নিয়ে ক্ষতস্থানে প্রতিস্থাপনের কথা জানায়। আমরা সম্মতি দিলে অস্ত্রোপচার করে ডান পায়ের উরু থেকে চামড়া তুলে নিয়ে ক্ষতস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু উরু থেকে চামড়া নিতে গিয়ে মাংসসহ কেটে ফেলায় দীর্ঘ আড়াই মাসেও উরুর ক্ষত শুকায়নি বরং উল্টো পঁচতে শুরু করে।

 

একপর্যায়ে রেশমার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগে ভর্তি করানো হয়। সেখানে রেশমা ডাক্তার এমরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পায়ের ক্ষতের গভীরতা বাড়ায় ও পঁচন ধরার যেকোন মুহুর্তে তার আক্রান্ত পা’টি কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানিয়েছে কুমেকর এক চিকিৎসক। রেশমার এমন র্দুদশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে তার গোটা পরিবার। প্রায় সাড়ে ৫ মাস ধরে তার চিকিৎসা ব্যয় চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছে তাদের। এখন মানুষের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়াই একমাত্র ভরসা।

 

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, ডাক্তার শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়ার ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তার ডান পায়ে পঁচন ধরেছে, তাই যেকোন সময় সেটি কেটে ফেলতে হতে পারে। এই ডাঃ শাহেদ রেশমার চিকিৎসা ব্যয় বাবদ আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এর মাসুল গুনতে হচ্ছে রেশমা ও আমাদের। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা: শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়া রেশমার পায়ে ইনফেকশন জনিত পঁচন ধরার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রেশমা আমার অধীনে লাকসাম ইউনিটি ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। আমি তার স্কিন অপারেশান করেছি। তার পায়ে ইনফেকশন হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সে কোথায় আছে আমি জানিনা।

 

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান জানান, শিশুটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা উন্নতির দিকে আছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ