লাকসামে ঝুলন্ত স্বামী-গলাকাটা স্ত্রীর লাশ উদ্ধার - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসামে ঝুলন্ত স্বামী-গলাকাটা স্ত্রীর লাশ উদ্ধার



নিজস্ব প্রতিনিধি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার লাকসামে স্ত্রীর গলাকাটা এবং স্বামীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। আজ  বুধবার সকালে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউপির সালেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নিহত ওই দম্পতি হলেন- সালেপুর গ্রামের মুন্সী হেদায়েত উল্লাহর ছেলে ছপি উল্লাহ (৪৫) এবং তার স্ত্রী রাবেয়া (২৮) সে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে। নিহত ছপি উল্লাহ এক ছেলে জাহিদ হাসান(১৪) দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা সাথী (১১) ও নুসরাত জাহান সাইফা (০৫) রয়েছে। খবর শুনে লাকসাম থানা পুলিশ ঘঁনাস্থলে গিয়ে দম্পতির লাশ উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে সফি উল্লাহ একই গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে পারভীন আক্তারকে বিয়ের করে। তার প্রথম সন্তান জাহিদ হাসান জন্মের পর পারভীন আক্তার তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর মনোহরগঞ্জ উপজেলা’র মৈশাতুয়া ইউনিয়ন ইসলামপুর গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে রাবেয়া আক্তারকে বিয়ে করে। ওই সংসারে সাথী ও সাইফা নামে ২কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর ছেলে জাহিদ হাসান চট্টগ্রামে একটি ডিমের আড়াৎ’এ কাজ করে। দ্বিতীয় স্ত্রী’র বড় মেয়ে সাথী স্থানীয় সালেপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীতে এবং সাইফা একই বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শ্রেনীতে পড়ে। প্রতিদিনের ন্যায় গত মঙ্গলবার রাতে দু’সন্তানকে নিয়ে ঘুমানোর কথা থাকলেও সাথী নানার বাড়ীতে থাকায় ছোট কন্যা সাইফাকে নিয়ে ঘুমাতে যায়। সকালে সাইফা ঘুম থেকে উঠে বাবা মাকে প্রতিদিনের মত ডাকা ডাকি করলে তাদের কোন সাড়া-শব্দ না পেড়ে কান্না কাটি শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এসে জানতে চাইলে সে লোকজনকে ঘরে নিয়ে যায়। এসময় বিচানায় রাবেয়া আক্তারের গলাকাটা দেহ ও পাশের রুমে ছফি উল্লাহ ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায় বাড়ীর লোকজন আত্মচিৎকার দিলে পুরো এলাকায় মানুষ ছুটে আসে এবং থানা পুলিশকে খবর দেয়। এদিকে রাবেয়ার মা খবর শুনে নাতনী সাথীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মেয়ে সাথী ও সাইফার কান্নার আত্মচিৎকারে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ওই দম্পত্তি মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। ওই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আরিফুর রহমান জানান, খবর শুনে ঘঁনাস্থলে পৌঁছে ওই দম্পতির মরদেহ দু’রুমে দেখতে পাই। তাদের পারিবারিক ভাবে জানি নিহত ছফি উল্লাহ মানুষিক ভারসাম্যহীন লোক ছিল বিধায় দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন দ্বন্ধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনও এক সময় এ দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

এব্যাপরে নিহত ছফি উল্লাহ বৃদ্ধ পিতা মুন্সী হেদায়েত উল্লাহ বলেন- আমার ছেলে ছফি উল্লাহ মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। প্রতিনিয়ত তার চিকিৎসা চলছে। সে মানসিক রোগি বিধায় স্ত্রীর সাথে দন্ধ ও এলাকার লোকজনের সাথে প্রতিনিয়ত খারাপ আচরন করতো। আজকের এঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা ।
নিহত রাবেয়ার মা মরিয়ম আক্তার জানায়, আমার মেয়ের জামাই ছফি উল্লাহ মানাসিক রোগি। কয়েক মাস আগে মেয়ের জামাই আমার মেয়ে গলায় চুরি দিয়ে পোঁচ দেয়। মেয়ে ও জামাইর মৃত্যুর খবর পেয়ে এখানে এসেছি এ দুর্ঘটনা সর্ম্পকে আমি কিছুই বলতে পারবোনা।

 

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ও লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ কুমার দে যুগান্তরকে বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পত্তির স্বামী ছফি উল্লাহ’র ঝুলন্ত ও স্ত্রী রাবেয়ার গলাকাটা লাশ দেখতে পাই এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত ও পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ