ঢাকায় গৃহকর্তার নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী সীমার পাশে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ঢাকায় গৃহকর্তার নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী সীমার পাশে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকায় গৃহকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু গৃহকর্মী সীমার পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 

গতকাল  দুপুরে তারা নির্যাতিত শিশু সীমাকে দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তারা সীমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সীমার বাবা নগরীর কালিয়াজুরি এলাকার রিকশাচালক নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলেন এবং তার ওপর নির্যাতন কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্থ করেন।

জানা যায়, নিজের অভাব-অনটন থেকে দূরে রাখতে ও একটু সুখের আশায় কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর কালিয়াজুরির রিক্সা চালক নুরুল ইসলাম তার মেয়েকে তুলে দিয়েছিলেন প্রতিবেশি  নাজমুল ইসলাম অপুর কাছে। কথা ছিলো সীমা নাজমুল ইসলাম অপুর বাচ্চা দেখা শোনা করবে। সেই লক্ষ্যে পরিবার ছেড়ে প্রতিবেশী নাজমুল ইসলামের ঢাকার বাসায় কাজ করার জন্য যায় সীমা। কিন্তু বাসায় নিয়ে অপু সীমাকে দিয়ে শুধু বাচ্চা দেখাশোনা নয়, বাসার অন্য সকল কাজ করিয়েছে। পাশাপাশি চালিয়েছে মারধরও।  সীমার বাবা রিক্সা চালক নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর কালিয়াজুরীর পাক্কার মাথার মৃত মফিজুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম অপু বাচ্চা দেখাশোনার কথা বলে আমার মেয়েকে গত ১১মাস পূর্বে তার ঢাকার বাসায় নিয়ে যায়।  ৬ অক্টোবর নাজমুল আমাকে ফোনে ডেকে নেয় তাদের ঢাকার বাসায়। রাত ৮টায় টিকাটুলি মহিলা কলেজের সামনে তার বাসায় গিয়ে দেখি টয়লেটে আমার মেয়ে তালাবদ্ধ। তালা খোলে টয়লেট থেকে বের করে দেখি তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন। সেখান থেকে দ্রুত তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসি। বাড়িতে আনার পরও আমার মেয়ের জ্ঞান না ফেরার কারণে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে  তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। বর্তমানে সীমা ওই হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ৮নং শিশু ওয়ার্ডের ১৮নং বেডে চিকিৎসাধিন আছে।

যদিও সীমাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গৃহকর্তা নাজমুল ইসলাম অপু। ৭ অক্টোবর কুমিল্লার কাগজকে তিনি জানান, ‘সীমাকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। আমি বা আমার পরিবারের কেউ সীমাকে মারধর করেনি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর বলেন, ‘শিশু গৃহকর্মী সীমার উপর নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটেছে, তা অমানবিক। খবর পেয়ে এসপি সাহেবকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছি। সীমার বাবার সাথে কথা বলেছি। তার মেয়ের উপর নির্যাতনকারীদের অচিরেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ