নাঙ্গলকোটে পুলিশের গুলিতে স্কুল ছাত্রসহ গুলিবিদ্ধ ২ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটে পুলিশের গুলিতে স্কুল ছাত্রসহ গুলিবিদ্ধ ২



কেফায়েত উল্লা মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আসামী গ্রেফতার করতে গিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে ২জন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার বাঙ্গড্ডা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাঙ্গলকোট থানার এএসআই আব্দুর রহিম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার বাঙ্গড্ডা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে অটোরিক্সা চালক মো: সোহাগকে (২৮) গ্রেফতার করতে যায় ।


এসময় আসামী সোহাগ জামিনে আছেন বলে দাবী করলে পুলিশ তার জামিননামা দেখতে চায়। সোহাগ জামিন নামা দেখালেও পুলিশ তাকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করে । এনিয়ে বাকবিতন্ডা ও শোর চিৎকার শুরো হলে বাড়ীর পাশ্ববর্তী লোকজন এসে জড়ো হয়। এসময় স্থানীয়রাও পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সোহাগের ভাই অটোরিক্সা চালক ফারুক হোসেন (২৩) ও পাশ্ববর্তী বাড়ীর কবির আহমদের ছেলে বাঙ্গড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাকিব (১১) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।


এছাড়া পুলিশের মারপিটে সোহাগের মা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রুপিয়া বেগম (৫৫), বড় ভাই শাহিন মিয়া (২৮) ও গর্ভবতী স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২২) আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ গুলিবিদ্ধ ফারুক ও রাকিবকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে কিছু দুর নিয়ে তাদেরকে সিএনজি চালিত অটো রিক্সা থেকে পেলে দিয়ে চলে যেতে চাইলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে এএসআই আব্দুর রহিমসহ দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে রাখে।


পরে সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদ ও পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম ঘটনার স্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয় । আহতরা হলেন এএসআই আব্দুর রহিমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পুলিশ সদস্য মো: মানিক ও জাহিদকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


পুলিশের হামলায় আহত সোহাগের মা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রুফিয়া বেগম ও তার গর্ভবতী স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, জামিনে থাকা সোহাগকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের লোকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি চালায় ও আমাদেরকে মারপিট করে আহত করে। গুলিতে ফারুক ও রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়।


স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং স্থানীয়রা পুলিশের দুই সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা এসে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।


নাঙ্গলকোট থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, সোহাগের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তারা ডাকাত বলে চিৎকার করলে স্থানীয় কিছু লোকজন এসে পুলিশকে ধাওয়া করে। এসময় একজন পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ধরে টানা হেছড়া করলে বন্দুকের গুলি ছুটে ২জন আহত হয়। আহতরা আশংকা মুক্ত, তাদের চিকিৎসার খরচ আমরা বহন করবো। এবিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ