বরুড়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের টালবাহানায় জেডিসি পরীক্ষা দেয়া হলোনা মুক্তার - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বরুড়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের টালবাহানায় জেডিসি পরীক্ষা দেয়া হলোনা মুক্তার



মোঃ হুমায়ুন কবির মানিক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার ডেউয়াতলী দাখিল মাদ্রাসার জেডিসি পরীক্ষার্থী উম্মে হানি মুক্তা এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি সে। পরীক্ষা দিতে না পেরে হতাশায় ভেঙ্গে পরেছে মুক্তা।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নানা টাল বাহানা করে মুক্তা আক্তারের ফরম পূরণের সময় পার করে দেয়। তার বাবা চাঁন মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, মাদ্রাসা বোর্ড, মাদ্রাসা সুপার সহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেয়েকে পরীক্ষার টেবিলে বসাতে পারেননি। চাঁন মিয়া জানান, তিনি ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। গত ২৪ জুলাই মেয়ে উম্মে হানি মুক্তার পরীক্ষার ফি বাবদ ৪শ টাকা নিয়ে মাদ্রাসা সুপার কবির হোসেনের নিকট গেলে ৮শ টাকার নীচে ফরম পূরণ হবেনা বলে তিনি জানান। বোর্ডের নির্ধারিত ফি ২৫০ টাকা থাকলেও মাদ্রাসা সুপার ৮শ টাকার নীচে কারো ফরম পূরণ করেননি। মাদ্রাসা সুপার পরীক্ষার্থীকে মাদ্রাসা ছুটির পর দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে তাকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেন। তাতে রাজী না হওয়ায় তাকে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং ফরম পূরণ হবেনা বলেও জানিয়ে দেন। মুক্তা আক্তার বিষয়টি তার অভিভাবককে জানালে ওইদিনই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।


গত ২৪ আগষ্ট অভিযোগের তদন্ত করেন উপজেলা কৃষি উপ-সহকারি কর্মকর্তা মো. আলী। এ বিষয়ে গত ২৬ আগষ্ট শুনানী হয়। পরবর্তীতে পুনরায় গত ২৬ আগষ্ট, ১২ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে চাঁন মিয়াকে আশ্বস্ত করা হয়। এরপর বারবার উপজেলা কমপ্লেক্সে গিয়েও ওই কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না নেয়ায় মাদ্রাসা সুপার উম্মে হানি মুক্তার ২০১৯ সালের জেডিসি পরীক্ষার ফরম পুরণ করেননি। ফলে সে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ